রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। বিকল্প ব্যবস্থায় সংগৃহীত পানি দিয়ে চলছে হাসপাতাল। গত বৃহস্পতিবার ১৬ বছরের পুরনো নলকূপ থেকে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। পানির সংকটে তীব্র দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। পরে পাশের কিডনি হাসপাতাল থেকে এবং ওয়াসার গাড়িতে করে বিকল্প ব্যবস্থায় হাসপাতালে পানি সরবরাহ করা হলে দুর্ভোগ কিছুটা কমে।
হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলছে, তারা নতুন একটি গভীর নলকূপ বসানোর জন্য এক মাস ধরে কাজ করছে। তবে সেটা বসাতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সে পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে বিকল্প ব্যবস্থায় পানি সংগ্রহ করেই হাসপাতাল চালাতে হবে। এতে চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনো অসুবিধা হবে না বলেও মনে করছেন তারা।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন গতকাল শুক্রবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালের গভীর নলকূপটা ১৬ বছর আগে বসানো। সেটা হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার থেকে পানি দিচ্ছে না। এ জন্য কিছু পানি ওয়াসা থেকে আনছি। এভাবে ম্যানেজ করছি। আপাতত অস্থায়ী সমাধান হয়েছে। রোগীদের পানির সমস্যা হবে না। তবে স্থায়ী সমাধান হতে কিছুটা সময় লাগবে।’
স্থায়ী সমাধানের জন্য এক মাস আগে থেকেই কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান পরিচালক। তিনি বলেন, ‘এই জোনের পানি নিচে নেমে যাচ্ছে। সে জন্য আমরা আরেকটা গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সেটা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পিডব্লিউডি কাজ করছে। বিষয়টা স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে। সবাই মিলে চেষ্টা করছি কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়।’
স্থায়ী সমাধানে কত দিন লাগতে পারে জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, ‘সেটা পিডব্লিউডি ভালো বলতে পারবে। এক মাস আগে কাজ শুরু করেছে। ভূগর্ভস্থ পানি পরীক্ষা করা হয়ে গেছে। আগামী সোমবার সে রিপোর্ট পাব। মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট পেয়েছি। আশা করছি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পুরনো গভীর নলকূপের কর্মক্ষমতা কমেছে আগেই। নতুন নলকূপ না বসানোয় কিছুদিন ধরেই পানির সমস্যা হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার থেকে নলকূপ দিয়ে পানি ওঠা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা জানান, পানি না থাকায় দুদিন খুবই কষ্ট হয়েছে। কিডনি হাসপাতাল থেকে পানি এনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে। খাবার পানির জন্য হাসপাতালের সামনে চারটি বড় ট্যাংকি বসানো হয়েছে। এখন এভাবেই অস্থায়ীভাবে সংগৃহীত পানি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।