টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এখন উন্মাদনার নাম আসিফ আলী। তবে, তিনি একসময় ছিলেন মিডিয়া ট্রল আইটেম। এমনকি কোন কানেকশনে তাকে দলে রাখা হয়েছে এই নিয়েও হয়েছে বিস্তর সমালোচনা। এক সময় পোশাকের দোকানে কাজ করা আসিফ ২০১০ সালে ক্রিকেটে আসেন আচমকাই। প্রথম শ্রেণিতে অভিষেকের পর মিসবাহউল হকের নজরে পড়েন তিনি।
দুবাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনি ৪ ছক্কা হারিয়ে ৭ বলে করেন ২৫ রান। এর আগের ম্যাচেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও খেলেন ১২ বলে ৩ ছক্কায় ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস।
জয়ের পরে আসিফ টুইট করেন, ‘আর কোনো নির্দেশনা আছে পাকিস্তান? ধন্যবাদ ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও সেই লোকদের যারা কঠিন সময়ে আমার প্রতি আস্থা রেখেছিল।’

এখন ক্রিকেট বিশ্ব ভাসছে আসিফের প্রশংসায়। পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার সাঈদ আজমল একটি ক্রিকেট ওয়েব সাইটকে বলেছেন, ‘আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচে আসিফকে দেখে তার মনে পড়েছে আফ্রিদির কথা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে শহীদ আফ্রিদি ও আব্দুল রাজ্জাকের মতো ঝলক দেখিয়েছে আসিফ আলি। দীর্ঘদিন পর, কাউকে দেখলাম যে আফ্রিদির মতো ছক্কা মারতে। সত্যিই দারুণ খেলেছে সে এবং আশা করি, পরের ম্যাচগুলোয় এই ফর্ম ধরে রাখবে।’
একটি টেলিভিশন ধারাভাষ্যে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘আসিফ দেখিয়েছেন, ধৈর্য ধরলে একজন সত্যিকারের প্রতিভাবান খেলোয়াড় ভালো করতে পারেন।’
পিসিএলের সময় ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের প্রধান কোচ ও আসিফের খেলার ভক্ত সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার প্রয়াত ডিন জোনস বলেছিলেন, ‘আসিফ একজন প্রভাবশালী খেলোয়াড়। তিনি নিমেষেই খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারেন।’
২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর বড় কিছু করতে পারেননি আসিফ। টি-টোয়েন্টিতে তার সবচেয়ে বড় ইনিংস ২১ বলে ৪১ রানের। সেটিও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৮ সালে। ধারাবাহিকতায় থাকতে না পারা আসিফের ডানহাতি সামর্থ্যে তবু আস্থা রেখে গেছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। তারই ফিডব্যাক পাচ্ছে পাকিস্তান। দলের কাছে থেকে বারবার ভরসা পাওয়াতেই হয়তো টানা ব্যর্থতা বড় সাফল্য হয়ে ধরা দিল আসিফের কাছে।
আসিফ আলী ব্যক্তিগত জীবনে ভেঙে পড়েছিলেন দুই বছরের মেয়েকে হারিয়ে। ২০১৯ সালে যখন ক্যানসার কেড়ে নেয় আসিফের মেয়ের জীবন, সেই ধাক্কা সামলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসাই অসম্ভব মনে হচ্ছিল এই তারকা ক্রিকেটারের।
তবে, আসিফ সমস্ত সমালোচনা ট্রলকে পাত্তা না দিয়ে চলেন নিজের মতো করেই। খেলেন নিজের সর্বোচ্চটা। তার সোজাসাপ্টা জবাব, ‘আমি সমালোচনায় কান দিই না। সোশ্যাল মিডিয়াও অনুসরণ করি না। এর থেকে অনেক দূরে আছি। আমার রোলটাই এমন যে আমি মাঝেমধ্যে দলে আসি এবং মাঝেমধ্যে বাদ পড়ি। পাকিস্তান আমাকে প্রয়োজন মনে করায় ডেকেছে।’
