নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বিশ্ব

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:০১ পিএম

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল তালেবানকে বদলে দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সংগঠনটি নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) নেতারাও সরকারকে শাসিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গত মাসে আরেক কট্টরপন্থি তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের (টিএলপি) ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। ফ্রান্সবিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও হাজারো সমর্থককে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে টিএলপি মূলধারার রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তাদের এ উত্থান আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্বিগ্ন করছে।

বিবিসি বলছে, টিটিপির সঙ্গে অস্ত্রবিরতি করেছে পাকিস্তান সরকার। এতে আঞ্চলিক শান্তি ঝুঁকিতে পড়েছে। এখন ইমরান খানের সরকার টিএলপিকে যে রাজনৈতিক বৈধতা দিল তা শুধু পাকিস্তান নয়, এই অঞ্চল তথা বাকি বিশ্বকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

টিএলপি তাদের নেতা সাদ রিজভির মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদ থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ করে। সাদ রিজভির মুক্তি ছাড়াও ফ্রান্সের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের দাবি করেছিল তারা। কারণ দেশটির ব্যঙ্গাত্মক সাপ্তাহিক শার্লি এবদো মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে আবার ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছে। টিএলপির নেতাকর্মীদের এই লংমার্চেই নৃশংস ঘটনা ঘটে। গত ৩১ অক্টোবর ওয়াজিরাবাদ শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তা ইরফান আহসানকে সেখানে পোস্টিং দেওয়া হয়। সেখানে বিক্ষোভ চলছিল। ওইদিন দুপুরে ইরফান আহসান ওষুধ কেনার জন্য দোকানে গিয়েছিলেন। তখন তাকে অপহরণ করা হয়। ইরফানের ভাই উসমান আহসান বলেন, এর কদিন পর একটি হাসপাতালের পাশ থেকে তার ভাইয়ের খণ্ডিত লাশ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘যারা ইরফানকে হত্যা করেছে তারা নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসেবে দাবি করেন। আমরা ঠিক জানি না, তারা কোন ইসলামের চর্চা করেন।’ উসমান বলেন, ‘তারা অনেক পরিবার ধ্বংস করেছে। শুধু একজন মানুষকে মুক্ত করতে গিয়ে তারা ছোট্ট একটি শিশুকে এতিম পর্যন্ত করেছে।’ এর আগেও পুলিশ জানিয়েছিল, টিএলপির সমর্থকরা ১০ পুলিশ সদস্যকে হত্যা এবং ১ হাজার ৩০০ জনকে নির্যাতন করেছে।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই টিএলপি পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনের সমর্থক। সাত মাস আগেও সরকার সংগঠনটির বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছিল, তা থেকে ইউটার্ন করেছে।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব পিস স্টাডিজের নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমির রানা বলেন, ‘যেভাবে সরকার টিএলপি ইস্যুতে সমঝোতা করল তা ইতিমধ্যে ইউরোপের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করে, টিএলপি বাইরের নাগরিকদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত