বরিশালে ৩ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ায় ডাবের পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্ত্রী আয়শা আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী সাইদুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইদুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আসামি সাইদুলের উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ে খুশি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাইদুল ইসলাম মৃধা (৩০) বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের আলতাফ মৃধার ছেলে।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের এপিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার মনি জানান, আসামি সাইদুল তার স্ত্রীর আয়শার কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত যৌতুক না দেওয়ায় বিভিন্ন সময় স্ত্রী আয়শা আক্তারকে নির্যাতন করেন তিনি।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর বেলা ১২টার দিকে আসামি তার নিজ ঘরে স্ত্রীকে ডাবের পানি খাওয়ান। অসুস্থ অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হলে ওই দিন দিবাগত রাত ৩টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এ ঘটনায় মৃতের বাবা ফজলু কাজী বাদী হয়ে আয়শার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৫ জনকে আসামি করে ৫ অক্টোবর আগৈলঝাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশি তদন্তে ৩ আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে শুধুমাত্র সাইদুল ও তার মা বিলকিস বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
পরে অভিযোগ গঠনের সময় বিলকিস বেগমকে অব্যাহতি দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে একমাত্র আসামি ও নিহতের স্বামী সাইদুল ইসলাম মৃধাকে ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর সাইদুল কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।
