বরাদ্দ বাড়াতে সংস্কারে বিলম্ব ঘরবাড়ি বিলীনের শঙ্কা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৪৩ পিএম

খুলনার কয়রা উপজেলার দশহালিয়ায় বেড়িবাঁধ মেরামতের বরাদ্দ বাড়াতে ছয় মাস দেরি করে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিছু পাউবো কর্মকর্তার এমন স্বেচ্ছাচারিতায় কমপক্ষে ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীর জোয়ারে বিলীন হতে বসেছে। সেই সঙ্গে এলাকার এক হাজার বিঘা চিংড়ি ঘেরের উৎপাদন বন্ধ থাকায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে দুই শতাধিক মৎস্যচাষির। ফলে গত ছয় মাস ধরে অসহনীয় দুর্ভোগে দিন পার করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এলাকাবাসী জানায়, চলতি বছরের ২৬মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রবল জোয়ারে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতে পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণ পানিতে তলিয়ে যায় উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম। এ সময় বেড়িবাঁধের অন্তত ১২টি স্থানে ভেঙে যায় এবং দুই হাজার পাঁচশ চিংড়ি ঘের তলিয়ে যায়। বাঁধটি স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামতের চেষ্টা করে এলাকাবাসী। কিন্তু কতিপয় প্রভাবশালী ও পাউবো কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রায় আড়ায় মাস আগে দশহালিয়া বাঁধ মেরামতের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। আবদুর রাজ্জাক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। তিনি কাজ শুরু করার পর নানা প্রতিবন্ধকতায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তার চুক্তি বাতিল করা হয় এবং অজ্ঞাত কারণে প্রায় দুই মাস সেখানে কাজ করা হয়নি। সবশেষ বরাদ্দ বাড়িয়ে সোলায়মান নামে স্থানীয় একজন শ্রমিক সরদারকে ওই কাজের দায়িত্ব দিয়েছে পাউবো। তিনি গত ১৩ নভেম্বর থেকে কাজ শুরু করলেও সেখানে কাজের তথ্য সংবলিত কোনো সাইনবোর্ড নেই।

দশহালিয়া গ্রামের চিংড়িচাষি আলমগীর হোসেন, মতি সরদার, মান্নান শেখসহ আরও কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাঁধটি ভাঙার পর এর পরিধি ছিল অল্প। সে সময় উদ্যোগ নিলে সহজেই মেরামত হয়ে যেত। কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বেষীর অসহযোগিতার কারণে সম্ভব হয়নি। এখন সেখানে সরকারের কোটি টাকা অপচয়ের আয়োজন চলছে।’

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় এক কোটি টাকা চুক্তিতে দরপত্র ছাড়াই মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স নামে খুলনার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়েছে। তাদের হয়ে শ্রমিক সরদার সোলায়মান সেখানে কাজ করছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জিয়াউল হাসান টিটু বলেন, ‘পাউবোর কোনো কাজ আমার প্রতিষ্ঠান থেকে এর আগে করা হয়নি। শুধুমাত্র স্থানীয় এমপি সাহেবের অনুরোধে কাজটি করতে হচ্ছে। তবে কাজের কোনো তথ্য আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।’

পাউবোর কয়রা শাখা কর্মকর্তা (এসও) মশিউল আবেদীন বলেন, ‘কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দ বেড়েছে। এ ব্যাপারে স্যার (নির্বাহী প্রকৌশলী) ভালো বলতে পারবেন।’

সদ্য বিদায়ী পাউবোর সাতক্ষীরা-২ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমানের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে কোনো তথ্য জানাতে অপারগতা জানান। পরে আবারও ফোন করা হলে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ কাজ হবে সেটা দেখে টাকা দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত