নতুন ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়িত হলে ভবনের আয়তন ৩৩-৫৩ শতাংশ হ্রাস পাবে উল্লেখ করে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নেতারা বলেছেন, ফ্ল্যাটের দাম ন্যূনতম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং তা ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।
এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর চিঠি দিয়ে বলেছেন, ঢাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালার খসড়া বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত ক্রেতাশূন্য হয়ে যেতে পারে। তাতে আবাসন খাতের ২৬৯টি সহযোগী শিল্পও ক্ষতির মুখে পড়বে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ২০১৬-৩৫ সালের জন্য বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন করছে। সেটির আলোকে ঢাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২১ প্রণয়ন করা হচ্ছে। রিহ্যাব নেতারা নতুন ইমারত নির্মাণ বিধিমালার বিরোধিতা করছেন।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন এ চিঠি দেন।
চিঠিতে তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত ড্যাপ বাস্তবায়িত হলে জমির মূল্য কমবে। এই শহরে যার এক টুকরা জমি রয়েছে, তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আবার প্রস্তাবিত ড্যাপ অনুযায়ী ঢাকার জনঘনত্ব নামিয়ে আনতে হলে অর্ধকোটি মানুষকে এই শহর থেকে বিতাড়ন করতে হবে। ফলে প্রস্তাবিত ড্যাপ বাস্তবায়িত হলে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
রাজধানীতে এখন ভবন নির্মাণ করা হয় ২০১০ সালের ড্যাপ ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে। ২০০৮ সালে করা এই বিধিমালায় জমির আয়তন অনুযায়ী কত তলা বা উচ্চতার ভবন নির্মাণ করা যাবে, তা উল্লেখ আছে। এই বিধিমালার কারণে বেশি উচ্চতার আবাসিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, ১৯৯৬ সালের বিধিমালায় ধানমন্ডিতে যে জমিতে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করা যেত, ২০০৮ সালের বিধিমালার ফলে সেই জমিতে ১৪ তলা ভবন হচ্ছে।
অবশ্য নতুন খসড়া ড্যাপে প্রস্তাব করা হয়েছে, গণপরিসর বা সাধারণ মানুষের জন্য জায়গা না ছাড়লে ব্যক্তি পর্যায়ে ধানমন্ডিতে ৮ তলার ওপরে আর ভবন নির্মাণ করা যাবে না। নতুন ড্যাপে আবাসিক ভবনের উচ্চতাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি শুধু ধানমন্ডি নয়, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ঢাকা শহরের সব এলাকার জন্য প্রযোজ্য হবে। আর রাজউকের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং সাভার পৌর এলাকায় আবাসিক ভবন হবে সর্বোচ্চ ৬ তলার।
আবার ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, ২০ ফুট সড়কসংলগ্ন ৫ কাঠা জমিতে সর্বোচ্চ ৮ তলাবিশিষ্ট ভবনে মোট সাড়ে ১৩ হাজার বর্গফুট নির্মাণের অনুমতি মিলত। আর প্রস্তাবিত বিধিমালা বাস্তবায়িত হলে সমপরিমাণ জায়গায় নির্মাণ করা যাবে সর্বোচ্চ ৫ তলাবিশিষ্ট মোট ৯ হাজার বর্গফুটের ভবন। তবে ২০ ফুটের চেয়ে কম প্রশস্তের সড়কের ক্ষেত্রে ভবনের উচ্চতা ৩-৪ তলার বেশি হবে না।
জানা যায়, প্রস্তাবিত ড্যাপ নিয়ে রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে ১৫-২০ বার বৈঠক করেছেন রিহ্যাবের নেতারা। তবে বিষয়টির সুরাহা হয়নি। আগামী মঙ্গলবার আবারও বৈঠক আছে।
