তরুণীকে ধর্ষণে শ্যালককে সহযোগিতার অভিযোগে স্ত্রীসহ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এএসআই ওলিউল্লাহ সরকারের (সোহেল) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ’র আদালতে এক কলেজছাত্রী এই মামলাটি করেন।
মামলার অপর আসামি হলেন- ওলিউল্লাহ সরকারের স্ত্রী রোকেয়া ওরফে রুনা ও শ্যালক হাফিজুর রহমান মেহেদী ।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।’
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভিকটিমের সঙ্গে রোকেয়ার পরিচয় হয়। এ সূত্রে ভিকটিম তাদের সঙ্গে গত বছরের জানুয়ারিতে সাবলেট হিসেবে রুম ভাড়া নেন। রোকেয়ার ভাই হাফিজুর রহমান মাঝে মধ্যে বোনের বাসায় আসা যাওয়া করতেন। ওলিউল্লাহ ও রোকেয়া ভিকটিমের সঙ্গে হাফিজুরকে অবিবাহিত বলে পরিচয় করে দেন। এরপর ভিকটিম ও রোকেয়ার মধ্যে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা এক সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। বন্ধুত্বের সুবাদে হাফিজুর রহমান ভিকটিমকে কুপ্রস্তাব দেন। ভিকটিম তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে হাফিজুর রহমান ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে প্ররোচনা দিয়ে যৌন মিলনে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। ভিকটিম অতিষ্ঠ হয়ে হাফিজুরকে বলেন বিয়ে করতে। হাফিজুর এতে রাজি হয়। তবে বিয়ের বিষয়টি পরিবারকে জানাতে বারণ করে। এতে ভিকটিম প্রথমে রাজি না হলেও পরবর্তীতে আসামির প্রতি ভালোবাসা ও দুর্বলতার কারণে রাজি হন।
বিয়ে রেজিস্ট্রির কথা বলে হাফিজুর ভিকটিমের কাছ থেকে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেয়। গত ২১ মার্চ একটি ৬ লাখ টাকার একটি কাবিননামা মূলে একটি বিয়ের হলফনামা তৈরি করে হাফিজুর দাবি করে ভিকটিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। পরে ভিকটিমসহ তিন আসামি একত্রে বসবাস করতে থাকেন।
মামলায় বাদী তার আরজিতে আরো বলেন, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা বিয়ের হলফনামা তৈরি করে দীর্ঘদিন ধর্ষণ ধরে করেছে। বাদী গর্ভবতী হলে অন্য আসামিরা জোর করে তাকে ওষুধ সেবন করিয়ে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলে। ফুসলিয়ে তার কাছ থেকে আড়াই লাখ আত্মসাৎ করে। গত ৬ নভেম্বর আসামি হাফিজুর রহমান ভিকটিমকে বিয়ে করেনি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা বিয়ের হলফনামা তৈরি করেছে তা স্বীকার করে আত্মগোপনে চলে যায়।
বিয়ে না করে হাফিজুর তাকে ধর্ষণ করেন এবং এএসআই ওলিউল্লাহ এবং তার স্ত্রী রোকেয়া এতে সহযোগিতা করেন। পরবর্তীতে গত ১২ নভেম্বর ওলিউল্লাহ ও রোকেয়া ভিকটিমকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেন এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জীবনে শেষ করে ফেলবে বলে হুমকিও দেন।
