আবাসন ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় আয়োজন রিহ্যাব মেলা-২০২১ শেষ হলো। গতকাল সোমবার বিকেলে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় ৫ দিনের এই মেলার। ২৩ ডিসেম্বর শুরু মেলায় গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৩৯৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ফ্ল্যাট, প্লট ও বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি এবং বুকিং হয়েছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাট বিক্রি এবং বুকিং হয়েছে ১৯৮ কোটি টাকার। প্লট বিক্রি হয়েছে ১২৫ কোটি টাকার এবং বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি ও বুকিং হয়েছে ৭৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। এ ছাড়া ব্যাংক কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) এসেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
গতকাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) কামাল মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) এবং মেলা কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা, ভাইস প্রেসিডেন্ট (৩) লায়ন শরীফ আলী খানসহ রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট মেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারীর পরে নাগরিকদের বিনিয়োগে আস্থার অভাব লক্ষণীয় ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার প্রকোপ এখনো চলমান। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় পদক্ষেপে নাগরিকদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন এবং ব্যাপকমাত্রায় টিকা প্রদানের ফলে আমাদের দেশে করোনার প্রকোপ কমে এলেও এখনো শঙ্কার সংকেত রয়ে গেছে। এমন অবস্থায় আমাদের রিহ্যাব ফেয়ার সফলভাবে শেষ হতে চলেছে। কভিড কাটিয়ে সবাইকে এক করতে পেরেছি। ফেয়ার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। এই ফেয়ারের মাধ্যমে মানুষের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতা, মিডিয়া এবং সবার স্বতঃস্ফূর্ততায় আশা ফিরে পাওয়ার সংকেত পেয়েছি। মেলায় ক্রয়-বিক্রয়ের সংখ্যা তত্ত্ব দিয়ে এই আস্থা ফিরে পাওয়ার সার্বিক চিত্র ভিজুলাইজড করতে পারব না। এই মেলায় নাগরিকদের যে সাড়া, যে আবেদন আমরা দেখেছি তাতে আমরা আশান্বিত হয়েছি। আমরা দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি, আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।’
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মেলার আসল উদ্দেশ্য ব্র্যান্ডিং করা। এখানে যেসব ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছেন, তারা সবাই ফ্ল্যাট বা প্লট ক্রয় করবেন। কেউ হয়তো এখন ক্রয় করবেন আর কেউ হয়তো একটু পরে ক্রয় করবেন। মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো মেলায় আসা ক্রেতার কাছে তাদের পণ্যের মান সম্পর্কে তুলে ধরেছেন। তারা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নার্সিং করবেন আর ক্রেতারা যে দেখে গেলেন, তা যাচাই-বাছাই করবেন এবং পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ’
তিনি জানান, এবার মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থী এসে ছিলেন ১৯ হাজার ২৩৭ জন।
এবারের মেলায় দুই ধরনের টিকিট ছিল। একটি সিঙ্গেল এন্ট্রি। অপরটি মাল্টিপল এন্ট্রি। সিঙ্গেল টিকিটের প্রবেশমূল্য ছিল ৫০ টাকা। আর মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের প্রবেশমূল্য ছিল ১০০ টাকা। এন্ট্রি টিকিটের পাওয়া অর্থ দুস্থদের সাহায্যে ব্যয় করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।