গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে থাকা দুই দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে দুবাইয়ে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের (ডিবি) একটি টিম অভিযান চালিয়ে এ গ্রুপের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা হলো মো. নাসির, কাওছার আহমেদ ইমন, মোহাম্মদ জীবন হোসেন, মো. ওমর খৈয়াম নিরু, ফারহান মাসুদ সোহান, মো. আসলাম ও মো. মহিনউদ্দিন জালাল।
গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে মো. নাসির এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত রবিবার রাজধানীর বাড্ডা ও বান্দরবান জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে কাওছার, জীবন, নিরু, সোহান, আসলাম ও মহিনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেশি ও বিদেশি পিস্তল, গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন ও বিপুল ইয়াবা ট্যাবলেট।
গতকাল সোমবার বেলা ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।
তিনি বলেন, ‘শীর্ষসন্ত্রাসী জিসান ও তার ভাই শামীম দুবাইয়ে পালিয়ে আছে। সেখানে বসে সে দেশে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করে। তাকে সহযোগিতা করে কাশিমপুর কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুন্না ও মামুন ওরফে ছক্কা মামুন। কারাগারে বসে এই দুজন আবার তাদের অনুসারীদের দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করে থাকে।’ কারাগারে থাকা এ দুই সন্ত্রাসীর সঙ্গে জিসান এবং দেশে থাকা সন্ত্রাসীদের যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে ডিবি।
গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পূর্ব বাড্ডার আলিফনগর এলাকার জেনারেটর ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম খান টুটুলকে গুলির পরদিন শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের নামে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। চাঁদা না দিলে তার সন্তানকে খুন করার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। পরে ডিবি ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।
