মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদকের শ্রেণি থেকে মদকে কীভাবে আলাদা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ১৩ ডিসেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর আওতায় মদকে মাদকদ্রব্য শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালকোহল অনেক আগে থেকেই মাদক বলে চিহ্নিত আছে।
তিনি বলেন, যেহেতু কোর্টে নির্দেশনা রয়েছে এটা আমরা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেব। এখন পর্যন্ত আমরা যেটা ফলো করছি, সবগুলোকেই আমরা মাদক বলে চিহ্নিত করছি। লিকারকে কীভাবে আলাদা করে দেখা যায় সেটা নিয়ে আমরা আবারও বিস্তারিত আলোচনা করব।
বিচারাধীন মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকসেবীদের চিকিৎসায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৪ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মাদক মামলা রয়েছে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হবে। সীমান্তে মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া পরামর্শ এসেছে।
তিনি বলেন, অনলাইনে যেমন সবকিছু বিক্রি হয়, আমরা এখন দেখছি অনলাইনে মাদক বিক্রি শুরু হয়েছে। কঠোরভাবে মনিটরিং করে যারা অনলাইনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, সব উৎপাদিত পণ্যের গায়ে এবং চিঠি-পত্রের ওপরে ‘মাদককে না বলুন’ স্লোগান লেখার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সুপারিশ এসেছে। মাদকের বিরুদ্ধে গণজাগরণ তৈরি করার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে মাদকের বিরুদ্ধে এই গণজাগরণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রত্যেক বিভাগে, প্রত্যেক জেলায়—প্রয়োজনে প্রত্যেক উপজেলা-ইউনিয়নে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক আইনে একটি ডেডিকেটেড কোর্ট করার কথা বলা হয়েছিল। আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বসে একটি সিদ্ধান্তে এসেছি, প্রত্যেক কোর্টে একটি বিশেষ ব্যবস্থা করার জন্য, যাতে মাদকের মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি করা যায়। আইনমন্ত্রী বলেছেন, এ জন্য উদ্যোগ নেবেন।
মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পাশাপাশি চিকিৎসা কেন্দ্র যুক্ত করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাময় হলো একদম সম্পূর্ণ সুস্থ করে ফেলা। ৭০ শতাংশের বেশি মাদকসেবী সম্পূর্ণ সুস্থ হয় না। ৩০ শতাংশ আবারও ফিরে আসে। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পাশাপাশি চিকিৎসা কেন্দ্র যদি নামের সঙ্গে থাকে সেটাই উপযুক্ত হবে। কারণ শতভাগ নিরাময় আমরা করতে পারছি না। চিকিৎসা ও নিরাময় কেন্দ্র আমরা এই নামটি রাখতে চাই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক আমাদের দেশে তৈরি হয় না। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসছে। টেকনাফের যত উপরে যাবেন বান্দরবানের দিকে, এটা ইনঅ্যাকসেসবল জায়গা। হেঁটে বর্ডার এলাকায় যেতে দু-তিন দিন লাগে। আমরা বর্ডার রোড করছি। এর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, বছর দু-একের মধ্যে বর্ডার রোডের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। তখন আমাদের বর্ডার গার্ডরা সীমান্তে গিয়ে পাহারা দিতে পারবে এবং মাদকের প্রবেশ থেকে আমরা অনেকাংশে মুক্তি পাব বলে আশা করছি। শতভাগ হবে এটা আমরা চিন্তা করি না কিন্তু অবশ্যই আমরা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আমরা কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করেছি, আরও শক্তিশালী করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। সারা বাংলাদেশে এখন যত্রতত্র মাদকের বিস্তার ঘটে যাচ্ছে। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আমাদের কঠোর থেকে কঠোতর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইয়াবার বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেকনাফের অধিবাসীরা বলে এটা নাকি মাদক না, ট্যাবলেট। এদের সচেতন করতে হবে। পুলিশ-বিজিবি-কোস্টগার্ড-অধিদপ্তর দিয়ে আমরা সচেতন করতে পারব না। জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সেটাই করছি। সরকারি যে কোনো চাকরির জন্য ডোপ টেস্টের (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন।
