চলতি বছরের শুরুতে রাজা ও প্রীতি নরসিমা ভারতজুড়ে এক রোডট্রিপে বের হয়েছিলেন। ওই ট্রিপে তারা একটি বার্তাই জনগণকে দিতে চেয়েছিলেন। সেই বার্তা হলো ‘জনসমক্ষে থুতু ফেলা বন্ধ করুন।’ রাজা ও প্রীতি চলার পথে মাইক দিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজটি করেছিলেন। তারা বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, করোনা মহামারীর এ সময়ে যত্রতত্র থুতু ফেলা কারও না কারও জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ভারতে জনসমক্ষে থুতু ফেলা খুব সাধারণ বিষয়। রাস্তায় রাস্তায় পান খেয়ে ফেলা লাল রঙের থুতু দেখা যায় হরহামেশাই। কলকাতার ঐতিহাসিক হাওড়া ব্রিজে গেলে এই লাল রঙের দলা দলা থুতু সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পুনেতে বসবাসরত রাজা ও প্রীতি এই যত্রতত্র থুতু ফেলার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করছেন ২০১০ সাল থেকে। এ নিয়ে তারা একাধিক ওয়ার্কশপ, অনলাইন ও অফলাইন ক্যাম্পেইন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। এসব কাজের বিপরীতে প্রায়ই যে দুটি লাইন তাদের শুনতে হয়েছে তা হলো ‘তোমার কী সমস্যা?, এটা কি তোমার বাবার সম্পত্তি?’
ভারতের শহরগুলোর মধ্যে মুম্বাইয়ের সিটি করপোরেশন অনেক চেষ্টা করেছিল থুতু ফেলা বন্ধে জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য। কিন্তু এমন উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখেনি। কিন্তু এখন চলছে মহামারীকাল। বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁচি-কাশি-থুতুর মাধ্যমে বায়ুবাহিত হয়ে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক স্তরে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও তাই জনসমক্ষে থুতু ফেলা বন্ধে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
২০১৬ সালে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, ভারত একটি থুতু ফেলা দেশ। আমরা বিরক্ত হয়ে থুতু ফেলি। আমরা ক্লান্ত হয়েও থুতু ফেলি। আমরা যখন রেগে যাই তখনো থুতু ফেলি। যেখানে সেখানে যেকোনো সময় আমরা থুতু ফেলি।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতের রাস্তাগুলোতে হাঁটলে। কিছুদূর হাঁটলেই দেখা যায় থুতু-কফ। কলামনিস্ট সন্তোষ দেশাইয়ের মতে, ‘ভারতের ছেলেরা তাদের স্বাস্থ্যগত সৌকর্য নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থায়। ফলে তারা জনসমক্ষে থুতু ও প্রস্রাব করার মতো ঘটনাতেও বিচলিত হয় না।’ সবচেয়ে মজার বিষয়, রাজা ও প্রীতির চালানো এক গবেষণা বলছে, ভারতে মানুষ অলস সময়ে বা কারও জন্য অপেক্ষা করাকালীন সবচেয়ে বেশি থুতু ফেলে রাস্তায়।
ঐতিহাসিক মুকুল কেশবনের মতে, এই অঞ্চলের মানুষ তাদের দৈনন্দিন রাগ-ক্ষোভ-ঘৃণা থুতু ফেলার মাধ্যমে উগরে দিতে পারে। এই অভ্যাস পরিবর্তনে সমাজের তৃণমূল থেকে সাংস্কৃতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
