পর্যটক ধর্ষণ: আশিকের সহযোগী জয়ের ৩ দিনের রিমান্ড

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:১৯ পিএম

কক্সবাজারে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় আসামি ইসরাফিল হুদা জয়কে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ আদেশ দেন।

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আসামিকে আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

পুলিশ বলছে, মামলার প্রধান আসামি আশিকের সহযোগী ইসরাফিল হুদা জয়। তার বাড়ি কক্সবাজার শহরে।

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মুসলিম বলেন, এ পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত আশিকসহ এজাহারভুক্ত তিনজন এবং ওই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই মামলায় জয় ছড়াও চারজনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে হোটেল গেস্ট ইনের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন চার দিন এবং অন্যরা দুদিন করে রিমান্ডে আছেন।

দুদিন করে রিমান্ডে থাকা আসামিরা হলেন কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার রেজাউল করিম শাহাবুদ্দিন, চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার উলুবুনিয়া এলাকার মামুনুর রশীদ ও কক্সবাজার শহরের পশ্চিম বাহারছড়া এলাকার মেহেদী হাসান।

গত ২২ ডিসেম্বর রাতে স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে আসা ধর্ষণের শিকার হন নারী পর্যটক। ধর্ষণের শিকার নারীর ভাষ্য, ‘স্বামী-সন্তান নিয়ে ওই দিন সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছেন। ওঠেন শহরের হলিডে সী-ল্যান্ডে। ওই দিন বিকেলে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে লাবণি বিচে যান। রাতে হোটেলে ফেরার পথে এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এতে স্বামীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ওই যুবক। বাধা দিলে তার সঙ্গেও তর্কে জড়ায় যুবক। ওই সময় আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। তারা স্বামী-সন্তানকে ইজিবাইকে তুলে দিয়ে ওই নারীকে আলাদা করে নিয়ে যান। পরে ওই এলাকার একটি ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে তিনজনে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর স্বামী-সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে শহরের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মামুন মিয়া বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

মামলায় আশিকুল ইসলাম আশিক, বাবু, জয় ও রিয়াজ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে আরো দুই-তিন জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে।

ওই মামলায় পুলিশ ও র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত