‘অর্থহীন সংলাপে’ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২২ পিএম

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছেন তা অর্থহীন বলে উল্লেখ করে তাতে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি।

বুধবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে দলটি।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি মনে করে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যতীত ইসি গঠন নিয়ে সংলাপ শুধু সময়ের অপচয়।

এতে বলা হয়, বিগত দু’টি ইসি গঠনের পূর্বে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে নিবন্ধনকৃত রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিয়ে তাদের মতামত দিয়েছিল। বিএনপি ইসি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করেছিল। কিন্তু সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচনকালীন আওয়ামী লীগের দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রযন্ত্রকে বেআইনি ব্যবহার, ইসির চরম ব্যর্থতা, অযোগ্যতার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।

এতে দাবি করা হয়, ইসি আওয়ামী লীগের দলীয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পর পর দু’টি ইসিই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

বিএনপির মতে, ২০১২ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান বলবৎ করে প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র বিকাশের সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছে। জনগণ তার ভোটের অধিকার হারিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় সরকার বহাল রেখে ইসি কখনোই স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবে না। বিএনপি বিশ্বাস করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ব্যতিরেকে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কোনো ইসিই অনুষ্ঠান করতে পারবে না।

বিএনপি বলছে, রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছেন তার কোনো ক্ষমতা নেই পরিবর্তন করার। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ কোনো ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারবে না। বিএনপি অর্থহীন কোনো সংলাপে অংশগ্রহণ করবে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্থায়ী কমিটির সভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের (ইউএনএইচআরসি) গুমসংক্রান্ত ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’ প্রকাশিত প্রতিবেদন বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কর্তৃক ‘গুম’ এর ঘটনাগুলো উঠে এসেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, গত এক দশক যাবৎ বিরোধী নেতা ও কর্মীদের গুম, নাগরিক আন্দোলনের কর্মী গুম হওয়া বাংলাদেশে একটা ত্রাসের অবস্থায় সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বারবার বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধিদল তদন্তের জন্য পাঠাতে চাইলেও সরকার অনুমতি প্রদান করেনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত