‘আওয়ামী সরকারকে বিদায় দেয়া না গেলে দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে, সার্বভৌমত্ব নষ্ট হবে’

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৪০ পিএম

আওয়ামী সরকারকে বিদায় দেওয়া না গেলে দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে, সার্বভৌমত্ব নষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে বিএনপির আন্দোলন শুরু হয়েছে, এ আন্দোলন বন্ধ হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি মুক্ত হবেন না ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় সাধারণ পাঠাগার চত্বরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তার দলের প্রধানের মুক্তির জন্য দুর্বার আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে না ফেরার শপথ করেন।

মির্জা ফখরুল এ সরকারকে ভয়াবহ দানব আখ্যা দিয়ে বলেন, তার দলের ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। পাঁচশ নেতা কর্মী গুম হয়ে গেছে। কয়েক হাজার মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে অনেক মানুষ।

তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় খালেদা জিয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য এখনো হাসপাতালের বেডে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। সারা দেশের মানুষের দাবি, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানো হোক। কিন্তু এই দাবি সরকারের কানে যায় না। যদি খালেদা জিয়ার কিছু ঘটে, তবে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেওয়া এবং মুক্তির দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

‘অবৈধ এই সরকার জনগণকে ভয় পায়’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি বাহিনী দিয়ে বিএনপি নেতা কর্মীদের তুলে নিয়ে গুম করে দিয়েছে সরকার। তাদের আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দীন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় সদস্য সাইদ সোহরাব, আখতারুজ্জামান মিয়া, ড্যাবের সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও -৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, দিনাজপুর পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান মাসুদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি মোস্তাদির হোসেন তরু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ সভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলার বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

ফখরুল বলেন, এ সরকার হলো নিশি রাতের সরকার। ভোট চুরি করাই আওয়ামী লীগের স্বভাব। জনগণকে আর বোকা ভাববেন না। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগের রাতে ভোট হয়ে গেছে। সকালে জনগণ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেনি।

এর আগের নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। তখনো একটি সংলাপ করেছিল। এখন আবারও সংলাপের জন্য ডাকাডাকি করছেন রাষ্ট্রপতি। এই সংলাপ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। নির্বাচন কমিশন সমস্যা নয়, সমস্যা সরকারের ভেতরে। নির্বাচনকালীন সরকার কে হবে? নিরপেক্ষ সরকার থাকবে, নাকি শেখ হাসিনার সরকার থাকবে? যদি শেখ হাসিনার সরকার থাকে তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত