ম্যানিকুইনের শিরেদের নির্দেশ তালেবানের

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০৬ পিএম

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে দোকান মালিকদের ম্যানিকুইনের শিরেদ করার নির্দেশ দিয়েছে তালেবান। এমন নির্দেশের পর প্লাস্টিকের ম্যানিকুইনের শিরেদ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি করাত দিয়ে একটি নারী ম্যানিকুইনের মাথা কাটছে।

আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আফগানিস্তানে তালেবান কঠোর ইসলামি আইন জারি করে চলেছে। এসব আইনের ফলে অনেক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েরা এসব আইনের ভুক্তভোগী হচ্ছে। হেরাত শহরের পুণ্যের প্রচার ও পাপ দমন মন্ত্রণালয়ের প্রধান আজিজ রহমান বলেন, ‘দোকান মালিকদের ম্যানিকুইনের গলা কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি আমরা। কারণ এটি ইসলামি শরিয়াহ আইনবিরোধী।’ তালেবানের নির্দেশের পর প্রথম দিকে অনেক দোকান মালিক ম্যানিকুইনের মাথা প্লাস্টিকের ব্যাগ বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে শুরু করেন। এই বিষয়ে আজিজ রহমান বলেন, তারা যদি ম্যানিকুইনের মাথা ও পুরোটা ঢেকে রাখে তবু ফেরেশতা তাদের দোকান বা বাড়িতে প্রবেশ করবে না এবং আশীর্বাদ দেবে না।

অবশ্য জাতীয় পর্যায়ে ম্যানিকুইন বা ভাস্কর্য নিয়ে এখনো কোনো নীতি ঘোষণা করেনি তালেবান। তাদের ইসলামিক আইনের কঠোর ব্যাখ্যা অনুসারে, মানুষের অবয়ব ইসলামে হারাম। ১৯৯০ দশকে প্রথম শাসনামলে বুদ্ধ মূর্তি বিস্ফোরণ দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কারণে বৈশ্বিক সমালোচনার মুখে পড়েছিল তালেবান।

তালেবানরা ক্ষমতার বসার পর থেকেই এমন অনেক নির্দেশনা জারি করছে যা দেশটির ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধাজনক নয়। কাবুলের কা ফারোশি বাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল তালেবানরা। পরবর্তী সময়ে বাজারটির ব্যবসায়ীরা এই মর্মে নিশ্চয়তা দেয় যে, তারা প্রতিযোগিতার জন্য কোনো পাখি বিক্রি করবে না। এমন নিশ্চয়তার পর বাজারটি ফের খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। অথচ, আফগানিস্তানের সংস্কৃতিতে পাখিদের প্রতিযোগিতার ইতিহাস বহু প্রাচীন। এই প্রতিযোগিতার ওপর ভিত্তি করে কয়েক লাখ পরিবারের ভরণপোষণ চলে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। স্বীকৃতি আদায় নিয়ে তালেবানরা একাধিক পক্ষের সঙ্গে লবিং করছে। কিন্তু মিত্র হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্র পাকিস্তান ও চীন তালেবানদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা করলেও, তারাও এখনো স্বীকৃতি দেয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত