যাত্রাবাড়ীতে ফানুসের আগুনে পুড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:০৩ পিএম

খ্রিষ্টীয় নববর্ষে ওড়ানো ফানুসে ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগে। এর মধ্যে ফানুসে কেঁপে কেঁপে ওঠা এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে এই আগুনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর এক ছোট্ট ব্যবসায়ীর গুদাম পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটি বেশ হৃদয়বিদারক। আগুনে পুড়ে যাওয়ার প্রায় ছয় দিন পার হয়েছে, কিন্তু তার ‘আগুনে পোড়া স্বপ্নের গল্প’ এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার হচ্ছে।

জানা গেছে, যাত্রাবাড়ীর ওই ব্যবসায়ীর নাম এনামুল। তিনি যাত্রাবাড়ীতে একটি কাঁচাবাজার আড়তে ‘ম্যানেজার’ হিসেবে কাজ করেন। বাড়তি আয়ের জন্য চাকরির পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসা করার ভাবনা থেকেই তিনি মাতুয়াইলে একটি বাসার ছাদ ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে আম, টমেটো পরিবহনে প্লাস্টিকের ঝুড়ি রাখার গুদাম করেন।

আরও জানা গেছে, ঋণ করে ওই গুদামে প্রায় সাত লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। তবে তার সেই গুদাম পুড়ে ছাই হয়েছে। ফানুসের উল্লাস তার স্বপ্ন পুড়ে ছাই করেছে।

এনামুল হক বলেন, ‘তিন মাস আগে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। গুদামে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো ঝুড়ি ছিল। প্রতিটির দাম ১০০ টাকার মতো। এসব ঝুড়ি কাঁচা সবজি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো। সবগুলোর মিলে গুদামে ছয় লাখ টাকার ঝুড়ি ছিল। আর শেড (ছাউনি) করতে এক লাখ খরচ। চোখের সামনে দাউ দাউ করে মালগুলো (ঝুড়ি) জ্বলছে। কিছুই করতে পারলাম না।’

পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নেভায়। কিন্তু নেভার আগেই আধা ঘণ্টায় জ্বলে সব শেষ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী এনামুল হক। সন্তানদের লেখাপড়া, পিতামাতার চিকিৎসার খরচ, বাসাভাড়া, খাওয়ার খরচ- সবকিছু তাকেই বহন করতে হয়।

উল্লেখ্য, খ্রিষ্টীয় নববর্ষের রাতে ফানুসের কারণে ঢাকায় সাতটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের উপসহকারী পরিচালক শাহজাহান শিকদার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি মাতুয়াইলের। একমাত্র এ ঘটনাতেই ক্ষতিও হয়েছে।

বাকিগুলোতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, মাতুয়াইল ছাড়া ধোলাইখালের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা লেগেছে। বাকিগুলো স্থানীয় লোকজন মুহূর্তের মধ্যেই নিভিয়ে ফেলেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত