কোরআনের তিন আদেশ ও নিষেধ

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১১:১৯ পিএম

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের সুরা নাহলে এমন তিনটি আদেশ দিয়েছেন, যার বিপরীতে আবার তিনটি কাজকে নিষেধ করেছেন। কোরআনে কারিমে বর্ণিত আদেশ আর নিষেধগুলো মানবজীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আদল (ন্যায়পরায়ণতা), ইহসান (সদাচরণ) ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন; তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।’ সুরা নাহল : ৯০

প্রথমত আল্লাহ আদলের নির্দেশ দিচ্ছেন। আদল শব্দের আভিধানিক অর্থ সমান করা। স্বল্পতা ও বাহুল্যের মাঝামাঝি সমতাকেও আদল বলা হয়। ফাতহুল কাদির ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এর অর্থ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’ কারও মতে আদল হচ্ছে ফরজ। আবার কারও মতে আদল হচ্ছে  ইনসাফ। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অর্থ হচ্ছে আভিধানিক অর্থ। কারণ কোনো কিছুতে বাড়াবাড়ি যেমন খারাপ তেমনি কোনো কিছুতে কমতি করাও খারাপ।

তার পরের নির্দেশ হচ্ছে ইহসান করা। এর আভিধানিক অর্থ সুন্দর করা। যা ওয়াজিব নয় তা অতিরিক্ত প্রদান করা। যেমন অতিরিক্ত সদকা।

প্রসিদ্ধ হাদিসে জিবরিলে স্বয়ং হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহসানের যে অর্থ বর্ণনা করেছেন তা হচ্ছে ‘ইবাদতের ইহসান।’ এর সারমর্ম হচ্ছে, আল্লাহর ইবাদত এভাবে করা দরকার, যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ। যদি তুমি এ স্তর অর্জন করতে না পারো, তবে এতটুকু বিশ্বাস তো প্রত্যেক ইবাদতকারীরই থাকা উচিত, আল্লাহ তার কাজ দেখছেন।

তৃতীয় নির্দেশ হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনদের দান করা। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আত্মীয়কে তার প্রাপ্য প্রদান করা।’ সুরা ইসরা : ২৬

ইহসান শব্দের মধ্যে আত্মীয়ের প্রাপ্য দেওয়ার কথাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু অধিক গুরুত্ব বোঝানোর জন্য একে পৃথক করে বলা হয়েছে। আর ওপরের তিনটি নির্দেশ হচ্ছে এই আয়াতের ইতিবাচক নির্দেশ।

নির্দেশের পর আবার তিন প্রকার কাজ করতে নিষেধ করেছেন অশ্লীলতা, যাবতীয় মন্দ কাজ এবং জুলুম ও উৎপীড়ন। তিনটি সৎকাজের মোকাবিলায় আল্লাহ তিনটি অসৎকাজ করতে নিষেধ করেন। অর্থাৎ আল্লাহ অশ্লীলতা, অসৎকর্ম ও সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেছেন।

প্রথমটি হচ্ছে ‘ফাহশা’ যার অর্থ অশ্লীলতা-নির্লজ্জতা। কথায় হোক কিংবা কাজে প্রকাশ্য মন্দকর্ম অথবা কথাকে অশ্লীলতা বলা হয়, যাকে প্রত্যেকেই মন্দ মনে করে। সব রকমের অশালীন, কদর্য ও নির্লজ্জ কাজের অন্তর্ভুক্ত। এমন প্রত্যেকটি কাজ যা কুৎসিত, নোংরা, ঘৃণ্য ও লজ্জাকর। তাকেই অশ্লীলতা বলে। যেমন কৃপণতা, ব্যভিচার, উলঙ্গপনা, সমকামিতা, মাহরাম আত্মীয়কে বিয়ে, চুরি, মদ পান, গালাগালি ও কটু কথা বলা ইত্যাদি। এভাবে সর্বসমক্ষে বেহায়াপনা ও খারাপ কাজ করা এবং খারাপ কাজকে ছড়িয়ে দেয়াও অশ্লীলতার অন্তর্ভুক্ত। যেমন- মিথ্যা প্রচার, মিথ্যা দোষারোপ, গোপন অপরাধ জনসম্মুখে বলে বেড়ানো, অসৎকাজের প্ররোচক গল্প, নাটক ও চলচ্চিত্র, নারী-পুরুষ প্রকাশ্যে আপত্তিকর মেলামেশা এবং মঞ্চে মেয়েদের নাচগান ও তাদের শারীরিক অঙ্গভঙ্গির প্রদর্শনী ইত্যাদি।

নিষিদ্ধ এর পরের বিষয়টি হচ্ছে ‘মুনকার’ তথা দুষ্কৃতি বা অসৎকাজ। যা এমন কথা অথবা কাজকে বলা হয় যা শরিয়ত হারাম করেছে। যাবতীয় গোনাহই এর অন্তর্ভুক্ত। কারও কারও মতে, এর অর্থ শিরক।

এর পরের জিনিসটি হচ্ছে সীমালঙ্ঘন। আবার জুলুমও হতে পারে। অর্থাৎ এর মাধ্যম জুলুম ও উৎপীড়ন বোঝানো হয়েছে। নিজের সীমা অতিক্রম করা এবং অন্যের অধিকার লঙ্ঘন করা ও তার ওপর হস্তক্ষেপ করা। তা আল্লাহর হক হোক অথবা বান্দার হক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত