ইবিতে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা

জানা গেল অস্ত্রধারী ও ভাঙচুরকারীদের পরিচয়

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিবির নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার জেরে গত শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারসহ বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রধান ফটকে ছাত্রদলের সঙ্গে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান নেওয়া স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পরিচয় পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে শিবির কর্মীদের দ্বারা থাপ্পড় মারা ছাত্রদল নেতার হলের কক্ষের জানালা ও প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন শিবিরকর্মীকে গাড়ির দিকে ইট, বোতল ও জুতা নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনায় ভিডিওতে কয়েকজনকে কক্ষের সামনে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, অস্ত্রধারীদের মধ্যে ছিলেন পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মণ্ডল, নিবিড় মণ্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদল সেক্রেটারি হৃদয়, মদনডাঙা হাইস্কুলের এসএসসি-২৬ ব্যাচের রাইসুল (পদমদি) এবং দশম শ্রেণির মিকদাদ (চরশান্তিডাঙা)।

ঘটনার বিষয়ে পদমদির বিএনপিকর্মী মানওয়ার বলেন, ‘সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করিনি। স্থানীয় জামায়াত উসকানি দেওয়ায় আমরা তাদের ধাওয়া দিয়েছিলাম। ওখানে কয়েকটি ইউনিয়নের বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা ছিল।’

হাতে অস্ত্র থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওখানে আমাদের হাতে লাঠি ছিল, কোনো অস্ত্র ছিল না। ওখানে পাঁচ-সাতটা ইউনিয়নের নেতাকর্মী ছিল, হয়তো এর মধ্যে কেউ হতে পারে অথবা ক্যাম্পাসের ছাত্রদলেরও হতে পারে। আমি তো সবাইকে চিনি না।’

এদিকে জিয়া হল শিবির নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড় দেওয়ার পর হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে চলে যান ছাত্রদল নেতা আলীনূর রহমান। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরা আলীনূরকে খুঁজতে উত্তেজিত অবস্থায় তাঁর কক্ষের সামনে জড়ো হন।

এ সময় ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কক্ষের সামনে এইচআরএম বিভাগের মারুফ, অর্থনীতি বিভাগের নাইমুর রহমান, আইন বিভাগের সাকিব, আরবি বিভাগের বাকি-বিল্লাহ ও আল-হাদিস বিভাগের শাকিলসহ আরও কয়েকজন উত্তেজিত অবস্থায় কাঠ ও টেবিল দিয়ে ধাক্কা এবং লাথি দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করছেন। এ সময় কক্ষের ভেতরে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের ধারণ করা ভিডিওতে জানালার কাচ ভাঙতে দেখা যায়। তবে ভাঙচুরকারীদের চেহারা দেখা যায়নি।

ওই সময় কক্ষে আটকে থাকা ছাত্রদলকর্মী তাহসিন জিম বলেন, ‘আলীনূর আমার কক্ষে আসার পর শিবিরের ১০-১৫ জন আমার রুমের দিকে আসে। অতর্কিত হামলা দেখে ভয়ে দরজা লাগিয়ে দিই। এরপর তারা দরজায় লাথি মারতে থাকে। পরে তারা রুমের জানালার কাচ ভাঙে। ব্যালকনিতে হোসনে মোবারক নামে এক ছেলে ইট মারে। একটা আমার হাতে লেগে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।’

এদিকে পুলিশি সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডি আলীনূরকে কক্ষ থেকে বের করে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির জানালার কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শিবিরকর্মীদের বিরুদ্ধে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি হলের ফটক পেরিয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলে ডান দিক থেকে শিবিরকর্মী নাইম ইসলাম গাড়িতে ইট এবং শাকিল আহমেদ বোতল ছুড়ে মারেন। এর পরপরই নীল টি-শার্ট পরিহিত আরও একজন প্রক্টরের গাড়ি লক্ষ্য করে পেছন থেকে ইট ছুড়লেও তা গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবিরকর্মী নাইম ইসলাম বলেন, ‘ওখানে হুড়োহুড়ি চলছিল। অনেকেই ইট মারতে পারে। তবে আমি কোনো কাচ ভাঙিনি।’

আরেক অভিযুক্ত শিবিরকর্মী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘আমি প্রক্টরের গাড়ির কাচ ভাঙার সঙ্গে জড়িত নই। আমি গাড়ির আশপাশেই ছিলাম না।’

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিবকে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলাম। এসব ভাঙচুর কে বা কারা করেছে, তা আমার কনসার্নে ছিল না।’

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘গেটের একটু সামনে পৌঁছাতেই ছেলেপেলে ওর (আলীনূর) দিকে ধেয়ে আসে। দ্রুত ওকে গাড়িতে ঢুকাই। পরে কয়েকটি ঢিল গাড়িতে এসে লাগে এবং কাচ ভেঙে যায়। কারা জড়িত ছিল, সেটি তদন্ত কমিটি দেখবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমাদের তদন্ত চলমান। যেসব ঘটনা ঘটেছে, সবকিছুই আমরা নোট ডাউন করছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত