স্কুলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে গেটে তালা, মহাসড়কে বিক্ষোভ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:৫৮ পিএম

সাভারে স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন-বিক্ষোভ করেছেন প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এ সময় একজন অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সোমবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার থানা স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই মানববন্ধন করেন সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

অভিভাবকেরা বলেন, আমরা ওই স্কুলে প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া করিয়েছি। তারা ৫ম শ্রেণি শেষ করে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হবে এটাই স্বাভাবিক। আগেও এভাবেই চলে আসছে। কিন্তু এবার আমাদের প্রায় ৭২ জন সন্তান সেখানে ভর্তি হতে পারছে না। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আজ ভর্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আজও ভর্তি করছে না। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অবস্থান নেওয়া যমজ সন্তানের মা রুমি বলেন, আমার দুই সন্তান হাফসা হাসান অর্পি ও হুমায়রা হাসান অর্নি ওই স্কুলের প্রাইমারি শাখায় প্রায় ৭ বছর অতিবাহিত করেছে। কিন্তু আজ ওই স্কুল থেকে আমাদের সন্তানদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের বের করে দিয়ে স্কুলের গেট বন্ধ করে দিয়েছে।

শিক্ষার্থী আব্দুর রহমানের অভিভাবক মা মোমেনা খাতুন বলেন, আমাদের সন্তানকে এই স্কুলেই ভর্তি করানোর আশ্বাস দিয়ে ভর্তি করানো হয়েছিল। আমি সকাল ৯টা থেকে স্কুলসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি কোথাও সমাধান মিলছে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই স্কুলে ভর্তির আশ্বাস দিলে আমি অন্য কোনো স্কুলে ভর্তির ফরমও তুলি নাই। এখন তো কোনো স্কুলে ভর্তি করাতে পারছি না। আমি মানুষিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আর সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়লাম।

শিক্ষার্থী তাসমীন হাসান প্রমির মা নাসরিন হাসান বলেন, আমাদের দাবি একটাই আমাদের সন্তান সাভার অধর চন্দ্র হাই স্কুলেই ভর্তি হতে হবে। আমাদের সন্তানদের বঞ্চিত না করে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।

শিক্ষার্থী সেলিম বলেন, রোকেয়া ম্যাডাম আমাদের বলেছিলেন, লটারি হলেও আমরা এখানেই ভর্তি হতে পারব। এখন ভর্তি হতে পারছি না। অন্য স্কুলে ভর্তি হতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগবে। এ টাকাও আমার পরিবার বহন করতে পারবে না। এখানে ভর্তি না করালে আশ্বাস দেওয়া হলো কেন? এখানে ভর্তি না করানো হলে আমি আর ভর্তিই হব না।

এ ব্যাপারে অধর চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার প্রধান শিক্ষক মিসেস রোকেয়া হক এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে চন্দন নামের এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। ছেলে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, মা অসুস্থ! তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না। হাসপাতালে ভর্তি আছেন ।

সাভার অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন পিটার গোমেজ বলেন, এটা আসলে সরকারি প্রক্রিয়া। লটারিতে যারা চান্স পেয়েছে তারা ভর্তি হয়েছে। যারা চান্স পায়নি তারা বিভিন্নভাবে ভর্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে অভিভাবকদের দাবি লটারি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলে তাদের সন্তানরাই চান্স পেত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত