২০০৭ থেকে ২০১৮, প্রায় ১১ বছরে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল আবাহনী লিমিটেড। অথচ তারাই কিনা শেষ দুই মৌসুম শেষ করেছে শূন্য হাতে। আবাহনীর একচ্ছত্র আধিপত্যে ভাগ বসিয়ে ধানম-ি জায়ান্টদের বড় ক্ষতিই করেছে বসুন্ধরা কিংস। দুই মৌসুমের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে এবার ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়ে হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পেতে শুরু করেছে তারা। এর মধ্যেই তারা ঘরে তুলেছে স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপ। ডাবলস জয়ের পর এখন তাদের লক্ষ্য স্বপ্নের ট্রেবলে। সেই লক্ষ্য পূরণের অভিযান শুরুর আগে অবশ্য জোড়া সাফল্যের উদযাপনটা সেরে ফেলেছে আকাশি-হলুদরা। গতকাল উৎসবের রঙে মাতোয়ারা হয়ে সাফল্য উদযাপন করেছে তারা। একই সঙ্গে ফুটবলারদের ক্লাব কর্তারা তুলে দিয়েছেন আকর্ষণীয় বোনাস ৭৫ লাখ টাকা।
ধানম-ির একটি হোটেলে চ্যাম্পিয়নশিপ উদযাপনের অনুষ্ঠানটা পরিণত হয়েছিল সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়-সংগঠকদের মিলনমেলায়। ক্লাবটির ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদ ও পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ বড়সড় কেক কাটেন। আরও উপস্থিত ছিলেন আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, সাবেক তারকা ফুটবলার শেখ আশরাফ আলী, সাবেক ক্রিকেটার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক জালাল ইউনুস, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, সাবেক ক্রিকেটার জিএস হাসান তামিমসহ অনেকেই।
কাজী নাবিল শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, ‘খেলার মাঠে বলেছি, এই বিজয় উৎসর্গ করছি সব মুক্তিযোদ্ধাকে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমি আবারও সম্মান জানাচ্ছি ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের প্রতি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজ পতাকা। বর্তমান মুহূর্তটি আমাদের সবার কাছে ম্যাজিকেল মোমেন্ট। ২০ দিনের (২২ দিন) মধ্যে দুটি কাপ জয় করেছি। শক্তিশালী সব দলকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে পেয়েছি। বসুন্ধরা কিংস, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সাইফ স্পোর্টিংকে পেয়েছি। সব দলকে দুই টুর্নামেন্টে আমাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমাদের এই চ্যাম্পিয়নশিপ এসেছে। সব খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্ট নিরলস পরিশ্রম করে আমাদের এই সাফল্য এনে দিয়েছেন।’ ফুটবল দলের ম্যানেজার সত্যজিত দাশ রুপু এবারের দল গঠনের নেপথ্যের গল্পটা বলেন, ‘অনেক পরিশ্রমের পর এই সাফল্য এসেছে। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সবার চেষ্টা ছিল। আশা করছি সামনের দিকে তা ধরে রেখে আরও সাফল্য আসবে।’ দলের পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস অনেক দিন ধরেই আবাহনীর দায়িত্বে আছেন। তবে সাফল্য পেতে শুরু করেছেন দেরিতে। এএফসি কাপে অভাবনীয় সাফল্য এনে দেওয়া এই কোচকে একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে গোটা দুই মৌসুম, ‘আমার কাছে বিশেষ মুহূর্ত। শুরুর দিকে সাফল্য আসেনি। তবে আশাহত হয়নি। সবার সহযোগিতা নিয়ে এবার সাফল্য এসেছে। দুই ফাইনালে আবাহনী নিজের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এটাই আবাহনী। সামনে আরও ভালো করতে চাই।’ দুই আসরে আবাহনীর জয়ের অন্যতম রূপকার দানিয়েল কলিনদ্রেস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন ভাঙা বাংলা ভাষায়, ‘আমি এখানে আসতে পেরে খুব খুশি। আবাহনীর সবাইকে ধন্যবাদ।’
ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল আগুস্তো দলকে নেতৃত্ব দিলেও চোটের কারণে খেলতে পারেননি ফেডারেশন কাপের ফাইনাল। সতীর্থরা তাদের শিরোপা উপহার দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাফায়েল বলেন, ‘আবাহনী ক্লাব একটি পরিবারের মতো। শুরু থেকে তা দেখে আসছি। একজন খেলোয়াড় হিসেবে দলের জন্য লড়াই করে যাব। আশা করছি সামনের দিকে আরও ট্রফি জিততে পারব।’
