জালিয়াত চক্রের দৌরাত্ম্যে আতঙ্কে জমির মালিকরা

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ০১:১১ এএম

আবাসনের দৌরাত্ম্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় জমি মালিকদের মাঝে জালিয়াত চক্রের আতঙ্ক বিরাজ করছে। চক্রটি নানারকম কৌশলে জমি আত্মসাৎ করতে চেষ্টা চালানোয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জমির মালিকরা।

জানা যায়, জালিয়াত চক্রটি প্রথমে ভুয়া দলিল তৈরি করে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নামজারি ও জমা খারিজ করিয়ে নেয়। পরে তা বিক্রি করে দেয় প্রভাবশালী মহলের কাছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন ভূমি মালিকরা।

সরেজমিন জানা যায়, রাজধানী-ঘেঁষা পূর্বাচল নতুন শহরকে ঘিরে ৭টি ইউনিয়ন আর ২টি পৌরসভা নিয়ে শিল্প নগরীখ্যাত ব্যস্ততম উপজেলা রূপগঞ্জ। বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ৩শ ফুট সড়ক আর ঢাকা বাইপাস সড়কসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই অবস্থান এ উপজেলার। ১৩৩টি মৌজায় ২৩ হাজার ৪৭৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় গড়ে উঠেছে শিল্পকারখানা ও আবাসন কোম্পানি। এতে বাড়ছে এলাকার আবাসিক গুরুত্ব। আর এর কারণে জালিয়াত চক্রের সক্রিয় ভূমিকায় স্থানীয় জমি মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলার মোগলান মৌজার বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, জালিয়াত চক্র বিভিন্নভাবে নামজারি করিয়ে ভুয়া দাতা দিয়ে বিক্রি করে দেয়। এতে আমরা হয়রানির শিকার হই।

উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার নাসির উদ্দিন বলেন, ভূমি সেবায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করায় জমি মালিকদের নিরাপত্তা বেড়েছে। এখন আর লুকোচুরি করে একের জমি অন্যের নামে করিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।   

এসব বিষয় নজরে আনলে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভূমিসেবায় জমি মালিকদের হয়রানিমুক্ত সেবাদানে তৎপর রয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি কার্যালয়। এমনকি জালিয়াত চক্রের দৌরাত্ম্যরোধে জমি মালিকদের সচেতন করতে নেওয়া হয়েছে পদক্ষেপ। শুধু তাই নয়, ডিজিটাল সেবাদান ও রাজস্ব আদায়সহ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় খাস জমি উদ্ধার, ভেজাল প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় থাকা ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি উদ্ধার করে সরকারের দখলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিসে জমি মালিকের ছদ্মবেশি জালিয়াত চক্রের অপকর্মে বাধা দিলেই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ চালায় অপপ্রচার। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলেই জমির প্রকৃত মালিকরা খুশি হলেও জালিয়াতচক্র ও অপকর্মে লিপ্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তাছাড়া, ভূমি অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত লেনদেনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত