শাবিপ্রবিতে পুলিশের হামলায় জাহাঙ্গীরনগরে ফের প্রতিবাদ

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৪১ পিএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবারও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সোমবার বেলা ১২টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার প্রতিবাদের পাশাপাশি সেখানে আন্দোলনরতদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই ঘটনায় গতকাল রবিবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন জাবি শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদের সভাপতি রাকিবুল হক বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরও সরকার যেভাবে তাকে সমর্থন দিয়েছে আমরা আশা করছি শাবিপ্রবির উপাচার্যের ব্যাপারে সরকার তেমন অন্ধ সমর্থন দেবে না।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, আজ সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একাত্মতা পোষণ করছি।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রবান্ধব হোক। নিজের অধিকার আদায় করতে তাদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।

উল্লেখ্য, অসদাচরণের অভিযোগ এনে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন শাবি শিক্ষার্থীরা।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তারা।

এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরতদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শেষে রেজিস্ট্রার ভবন থেকে বের হলে উপাচার্যের পিছু নেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় উপাচার্য ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বিকেল ৫টার দিকে উপাচার্যকে উদ্ধারে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটার পাশাপাশি তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

এ ছাড়া পুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীরা আবারও জড়ো হলে পরে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া করে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সার্বিক তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত