সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙার ঘোষণার পরে ঢাকা-সিলেট লংমার্চ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার সকাল এগারোটায় রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বিবেকবান নাগরিক সমাজ’-এর আয়োজনে আগে থেকেই নির্ধারিত কর্মসূচি থেকে লংমার্চ স্থগিত করার কথা বলা হয়।
এর আগে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লেখক ও সম্পাদক রাখাল রাহা, লেখক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া, গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ফারুক হাসান।
রাখাল রাহা বলেন, শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙায় ঢাকা-সিলেট লংমার্চ কর্মসূচি এ পর্যায়ে স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি মানার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তারা আন্দোলন চলমান রাখার ঘোষণা দিয়েছে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মসূচি যথাসময়ে জানানো হবে। নিজেদের ছেলেমেয়ে বিদেশে পাঠিয়ে সাধারণের ছেলেমেয়ের শিক্ষা ধ্বংসের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।
এহসান মাহমুদ বলেন, অতীতে আমরা যেভাবে দেখেছি যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন তাদের হামলা করা হয়, মামলা দিয়ে আটক করা হয়। সিলেটের ঘটনায়ও তা ঘটেছে। দ্রুত সময়ে আটক ছাত্রদের মুক্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলন সংগ্রামকে দমন করার কূটকৌশল থেকেও সরকারকে সরে আসতে হবে। উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা নিরাপদ করতে হবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের প্রশাসকের ভূমিকা থেকে শিক্ষকের ভূমিকায় আসতে হবে।
প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত শাবিপ্রবি ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, মামলা তুলে নিতে হবে। গ্রেপ্তার ছাত্রদের মুক্তি দিতে হবে। সমাবেশে নাগরিক ও পেশাজীবী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ ও বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে ঢাকা থেকে সিলেট লংমার্চের ডাক দিয়েছিল বিবেকবান নাগরিক সমাজ। এরই মধ্যে বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক ও লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
