২৮ জানুয়ারি এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচন। এদিন এফডিসিতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি চলচ্চিত্রের ১৭টি সংগঠনের সদস্যদের। গতকাল থেকেই এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চলচ্চিত্র নেতারা। দেশ রূপান্তরকে গতকাল বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্র নেতা তাদের ক্ষোভের কথা জানান। এ বিষয়ে আজ ২৯ জানুয়ারি, সংবাদ সম্মেলন করার কথাও জানিয়েছিলেন পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন।
এদিকে এফডিসিতে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়টি অপমানজনক দাবি করে এফডিসির এমডি নুজহাত ইয়াসমিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন সংগঠনের নেতারা। শনিবার ১৮ সংগঠনের পক্ষে এফডিসির এমডির পদত্যাগ দাবির ঘোষণা দেন পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান। এসময় তিনি লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে আগামীকাল থেকে মানববন্ধন চলবে বলেও জানান।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা হারুনের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে তাকে নিষিদ্ধ করেছে চলচ্চিত্রের ১৭টি সংগঠন। তারা জানায়, পীরজাদা হারুনকে চলচ্চিত্রের কোনও কাজে রাখা হবে না। পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান অন্য সংগঠনের সঙ্গে এ ঘোষণা দেন।
সোহান বলেন, ‘আমরা চলচ্চিত্রের মানুষ। চলচ্চিত্রের সবাই মিলেমিশে এখানে থাকি। সব নির্বাচন হয় উৎসব আমেজে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে বাড়াবাড়ি রকমের কিছু বিষয় দেখা গেছে। যার চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘন হয়েছে গতকালের নির্বাচনে। আমাদের ১৭ সংগঠনের সদস্যদের এফডিসিতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবেশের আদেশ দিলেও সেটাতে বাগড়া দিয়েছেন এফডিসির এমডি ও শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহীদুল হারুন। এটা আমাদের জন্য অপমানের। আমরা নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহীদুল হারুনকে আজীবন নিষিদ্ধ, এফডিসির এমডির অপসারণসহ চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি দিয়েছি। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি। আগামীকাল সকালে আমরা ১৭ সংগঠনের সদস্যরা এফডিসির গেটের সামনে শুয়ে থাকবো। এফডিসির এমডির কুশপুতুল পোড়ানো হবে।’
এদিকে এ আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে শিল্পী সমিতির নতুন সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি যেহেতু সবেমাত্র নির্বাচিত হলাম তাই সাংগঠনিকভাবে কিছু বলতে পারি না। তবে পরিচালক ও প্রযোজক সমিতির সদস্য হিসেবে আমি তাদের সঙ্গে একমত হয়েছি। এফডিসির লোকদেরই যদি এফডিসিতে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয় তাহলে তো কষ্ট লাগবেই৷ আমি লজ্জা পেয়েছি ইন্ডাস্ট্রির অনেক সিনিয়র পরিচালক, প্রযোজক এসে ঘুরে গেছেন। এটা আমাকে লজ্জা দিয়েছে।’
