জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে কঙ্গোতে ৫১ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২২, ০২:২৭ পিএম

জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ৫১ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) মধ্য আফ্রিকার দেশটির একটি সামরিক আদালত ৫১ জনের ওই মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতিসংঘের ওই দুই কর্মকর্তার নাম জাইদা কাতালান ও মাইকেল শার্প। জাইদা সুইডেনের নাগরিক এবং শার্প মার্কিন নাগরিক ছিলেন। ২০১৭ সালে তারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে শুনানি চলার পর শনিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়। অবশ্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অনেক আসামি রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

সামরিক আদালতের প্রসিকিউটররা ৫৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিলেন। যদিও তাদের ২২ জন পলাতক রয়েছেন এবং তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য চলেছে।

হত্যাকাণ্ডের শাস্তি হিসেবে কঙ্গোতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা খুবই সাধারণ। কিন্তু ২০০৩ সালে দেশটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর স্থগিতাদেশ ঘোষণা করার পর থেকে নিয়মিতভাবে সেগুলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। আর তাই অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

২০১৭ সালের মার্চ মাসে কঙ্গোর মধ্যাঞ্চলীয় কাসাই অঞ্চলে সুইডিশ বংশোদ্ভূত জাইদা কাতালান ও মার্কিন নাগরিক মাইকেল শার্পকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। কঙ্গোর সরকারি বাহিনীর সঙ্গে একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর সংঘর্ষের সময় বহু মানুষকে হত্যার পর গণকবর দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ নিয়ে তদন্তের জন্য ওই দুই কর্মকর্তা দেশটিতে গিয়েছিলেন।

কেবল জাইদা কাতালান এবং মাইকেল শার্পকেই নয়, কঙ্গোতে তাদের দোভাষী হিসেবে সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকেও সেসময় হত্যা করা হয়। অপহরণের ১৬ দিন পর ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় জাইদা কাতালানের মরদেহ শিরশ্ছেদ করা অবস্থায় ছিল।

জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় সেসময় তাৎক্ষণিকভাবে কামুইনা সাপু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিলেন কঙ্গোর কর্মকর্তারা।

হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারকার্য চলার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হলো।

স্থানীয় এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে হত্যার পর ২০১৬ সালে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কাসাই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগপর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন প্রাণ হারান এবং লাখ লাখ মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর হারিয়ে উদ্বাস্ত হয়ে পড়েন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত