যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সকল ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকবিলার জন্য ছাত্রলীগকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন উপলক্ষে সমন্বিত বার্ষিক হল সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নানক বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ওইসব ভয় দেখিয়ে লাভ নাই। শেখ হাসিনা এসব ভয় পায় না। শেখ হাসিানর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “তাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না। আগামী নির্বাচনে জনগণ ভালো না লাগার সেই ঔষধ ব্যবহার করবে। ঔষধ ব্যবহার করে ওদেরকে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলে দেবে। সেই ভয় ওদের রয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের কমিটি দিতে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত হল এই সম্মেলন। সম্মেলনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে হলগুলোতে কমিটি গঠন হবে বলে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন।
হল কমিটির নেতাদের উদ্দেশে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নানক বলেন, ‘আমি জহুরুল হক হলের ছাত্র ছিলাম। আমরা যারা হলে ছিলাম, আমরা হলেই খেতাম, হলেই ঘুমাতাম। হলের প্রতিটি ছাত্রের রুমে রুমে যেতাম। হলের প্রতিটি ছাত্রের সঙ্গে আত্মার আত্মীয়তা গড়ে তুলেছিলাম। সেই আত্মার আত্মীয়তা গড়ে তুলতে হবে। আপনি প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি হবেন, আপনার হলে যে ছাত্রটি থাকে, তার সুখ-দুঃখের সাথী হতে হবে। তার বাড়িতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। এটাই তো ছাত্রলীগ।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আবারও বাংলার মানুষ শেখ হাসিনাকে ম্যান্ডেট দেবে এবং তিনিই হবেন আবার প্রধানমন্ত্রী। আর সেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই নির্বাচন কমিশিন গঠন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করবার জন্য নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ওরা কখনোই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল দেখতে চায় না। ওরা ষড়যন্ত্রের অন্ধকার গলিপথ দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা ঘোলাপানিতে মাছ ধরতে চায়, ছাত্রলীগ তাদের জবাব দেবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, দেশের বিরুদ্ধে বিদেশে অপ্রচার করে, অর্থ বিনিয়োগ করে, লবিস্ট নিয়োগ করে, তাদের রাজনীতির কবর রচনার করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এগিয়ে আসতে হবে।’
ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চালিকা শক্তি হচ্ছে এই হলগুলো। আমরা চাই যোগ্য নেতৃত্ব এই হলগুলোতে আসুক। বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে ছাত্রলীগ তার ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।’
হল কমিটিতে পদ-প্রত্যাশীদের উদ্দেশে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘সম্মেলনের পর হল কমিটিতে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক না হতে পারলে কেউ মনোক্ষুণ্ন হবেন না। সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হওয়ায়ই সব কিছু নয়। সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও অন্যান্য পদে আপনারা যারা যোগ্য আছেন, আমরা তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার চেষ্টা করব। বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় কমিটিতেও আপনাদেরকে পদায়িত করে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে।’
হল সম্মেলন উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘একটি হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হবে কেবল দুজন। আর বাকিরা পদপদবী পাবে না, বিষয়টা তেমন নয়। বাকিদের পদোন্নতি হবে, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দেবেন। সুতরাং কেউ মন খারাপ করবেন না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আদর্শ দিয়ে রাজনীতি করে, পদপদবী পাই, না পাই আমাদের আদর্শিক চর্চা থাকবে। তবে অবশ্যই পড়াশোনা আগে রাখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতি করবেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আজকে এই সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনে নতুন রক্তের যেমন সঞ্চালন হবে, একইসঙ্গে এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন করে রক্ত-শপথ গ্রহণ করতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকারের বাংলাদেশ আমরা বিনির্মাণ করব।’
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধন এবং সঞ্চালনা করেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রনক জাহান রাইন।
