জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) স্নাতক-সম্মান প্রথম বর্ষে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তিতে ৮ জনের জায়গায় ১৬ জনকে ভর্তির তদবির করা হয়েছে। অতিরিক্ত ৮ জনের ভর্তির জন্য উপাচার্যের সম্মতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কোটায় ভর্তি উপ-কমিটির কয়েকজন সদস্য।
ফলে গত ৮ জানুয়ারি ভর্তিচ্ছুদের শারীরিক পরীক্ষা নেওয়া হলেও সোমবার পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা পাঠাতে পারেনি উপ-কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটি সূত্র জানায়, বিগত কয়েক বছর যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড় কোটায় আটটি আসন নির্ধারিত থাকলেও আসন সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে আসছে। মূলত কোটা সংশ্লিষ্ট ভর্তি উপ-কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সুপারিশে নির্ধারিত আসনের বাইরেও শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। গত বছরে আটটি আসন থাকলেও ১২ জনকে এই কোটায় ভর্তি করানো হয়েছিল।
চলতি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে ৮টি আসনের জন্য যোগ্য শিক্ষার্থী বাছাইয়ের জন্য নয় সদস্যের কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। গত ৮ জানুয়ারি ভর্তিচ্ছুদের যোগ্যতা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘ট্রায়াল’ নেওয়া হয়। ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে নিয়মমাফিক প্রথম আটজনকে নির্বাচন করে খেলোয়াড় কোটার ভর্তি উপ-কমিটি। এরপর ১৬ জনকে ভর্তি করানোর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকতার তদবির আসে কমিটির সদস্যদের কাছে। তবে শারীরিক পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না করায় অতিরিক্ত ৮ জনের ভর্তির ব্যাপারে আপত্তি জানায় কমিটির কয়েকজন সদস্য। তাদের আপত্তি সত্ত্বেও ১৬ জনকে ভর্তির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্মতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
যেকারণে ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচিত আট শিক্ষার্থীর তালিকা কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও তা এখনও পাঠানো হয়নি।
এদিকে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির সুপারিশের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটি অবগত নয় বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আবু হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খেলোয়াড় কোটার নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা এখনো আসেনি।’
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, অতিরিক্ত আটজনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সুপারিশ রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক দেবব্রত পালের সুপারিশে কিশোরগঞ্জের স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের মেয়েকে ভর্তির চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গণিত বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামের সুপারিশে এক ছাত্রকে ভর্তির চেষ্টা চলছে। অধ্যাপক নজরুল এই কোটার জন্য গঠিত উপ-কমিটির সদস্য। এই শিক্ষকের পছন্দের ছাত্র তালিকার শেষদিকে রয়েছে। ট্রায়ালে আশানুরূপ নৈপুণ্য না করায় তাকে ভর্তির ব্যাপারে আপত্তি জানায় কমিটির কয়েক সদস্য।
উপ-কমিটির একাধিক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নজরুল ইসলামের সুপারিশে ওই ছাত্রকে ভর্তির জন্য সুপারিশ করতে গেলে তার ওপরে থাকা অন্য ভর্তিচ্ছুদেরও ভর্তি করানো লাগবে। যে কারণে নির্ধারিত আসনের প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। অথচ আটজনের বাইরে থাকা ভর্তিচ্ছুরা ট্রায়ালে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে পারেনি। আটজনের বাইরে এমন কোনো ভর্তিচ্ছু নেই, যে খুব ভালো নৈপুণ্য দেখাতে পেরেছে।’
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবব্রত পালের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম সুপারিশের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখানে কারও ব্যক্তিগত সুপারিশ নেই। আমার পছন্দের প্রার্থী কেন থাকতে যাবে?’
অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত। যে কারণে এখনো ওই তালিকা পাঠাতে পারিনি। যে কয়টি আসন রয়েছে আমরা সাধারণত সেকয়জনকেই ভর্তির জন্য সুপারিশ করি। এর বাইরে আরও কয়েকজন অপেক্ষমান তালিকায় থাকে। তাদের ভর্তির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
