বাংলাদেশের আরও কিছু কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য একটি মহল প্রবলভাবে লবিং চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ও পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত হাউস কমিটির চেয়ারম্যান গ্রেগোরি ডব্লিউ মিকস।
তিনি বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বাংলাদেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চান না।
নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মিকস এ কথা বলেন বলে নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
মিকস বলেন, ‘আমরা এটি নিশ্চিত করতে চাই যে আমরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছি না এবং আমরা এখনো বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রেখেছি। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করছি না। একটি প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’
কংগ্রেস সদস্য মিকস আরও জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে থেকে একটি সুবিধাবাদী মহল আরও কিছু কর্মকর্তা, এমনকি রাজনীতিবিদদের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রবলভাবে লবিং চালাচ্ছে।
‘কিন্তু আমরা তাদের মুখের কথায় কাজ করবো না। এটা সম্ভব নয়। সবকিছু যাচাই-বাছাই করার পর আমরা সঠিক উদ্যোগ নেবো’ যোগ করেন তিনি।
এ বছর বাংলাদেশে এসে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিষয় সরেজমিনে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এর আগে, আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল সংক্রান্ত কংগ্রেসের উপ-কমিটির সঙ্গে কথা বলবো। প্রয়োজন হলে আমরা বাংলাদেশ বিষয়ে কংগ্রেসে শুনানি আয়োজনের ব্যবস্থা করবো।’
মিকস নিউ ইয়র্কের ৫ম কংগ্রেসনাল ডিসট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করেন। ওই এলাকাটি মূলত বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যুষিত।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব এবং সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমান সাত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং রাজস্ব বিভাগ আলাদাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপের এক মাস আগে, অর্থাৎ গত বছরের নভেম্বরে র্যাবকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লিখে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক ১২টি মানবাধিকার সংস্থা।
