বগুড়া শহরের জহুরুল নগর এলাকায় দুইবেলা খাবারের বিনিময়ে পড়াতে চাই বিজ্ঞাপন দিয়ে আলোচনায় আসেন আলমগীর কবির। তার সেই বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
তাকে নিয়ে এখন অন্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ওই এলাকার নেতৃস্থানীয় ও বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের তার শিক্ষকেরা জানিয়েছে, আলমগীর সম্পূর্ণ চিটিং করে আলোচনায় এসেছেন। তার অতটা অর্থ সংকট নেই। এ ছাড়া আলমগীর যে শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা প্রচার করেছেন সেটিও সঠিক নয়।
আলমগীর বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে ২০১৪ সালে স্নাতক সম্মান পাশ করেন। একই কলেজ থেকে ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তরও পাশ করেন। তিনি দাবি করেন স্নাতক পরীক্ষায় তিনি সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম হন। স্নাতকোত্তরেও একই রেজাল্ট করেন।
তার বন্ধুরা জানান, আলমগীর কবির নামে ভাইরাল হলেও কলেজের রেজাল্ট শিটে তার নাম আলমগীর হোসেন। সারা দেশে দূরে থাক কলেজের মধ্যেও প্রথম হননি তিনি। রেজাল্ট শিটে ৩.৪৪ সিজিপিএ নিয়ে তিনি ওই কলেজের মধ্যে স্নাতকে ২২তম হয়েছেন।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একাধিক শিক্ষক জানান, আলমগীর প্রচুর হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। হতাশার ভেতর থাকতে থাকতে যখন যা করতে ইচ্ছে করে তখন তাই করেন। উল্টোপাল্টা জীবন যাপনের দিকে আস্তে আস্তে চলে যান।
ফেসবুকে ভাইরাল পোস্টের বিষয়ে তারা জানান, আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। তার বন্ধুরা জানিয়েছে, যে ধরনের তথ্য দিয়ে আলমগীর পাবলিক সিমপ্যাথি পেয়েছে সেটি সঠিক নয়। উচ্চাভিলাষী জীবনের আকাঙ্ক্ষা আর কর্ম বিমুখতা তাকে এমন প্রতারণার পথে নিয়ে গেছে। তারা তার সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের কামনা করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, আলমগীর যা করেছেন তা প্রতারণা। সারা দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা। দেশের এখনো ওই পরিস্থিতি আসেনি যার কারণে শুধু ভাতের বিনিময়ে টিউশন করাতে হয়।
অন্যদিকে তার ফেসবুক প্রোফাইলে ঘুরে দেখা যায় নানা অসংগতিপূর্ণ স্ট্যাটাস। তার এক ফেসবুক ডে তে দেখা যায় তিনি লিখেছেন, ‘টিউশনি করার লিফলেট দেয়ার পর তিনজন মেয়ে আমারে বিয়ে করতে চেয়েছে।’
আলমগীর জানান, তিনি পাশ করার পর ভালো চাকরির জন্য পড়ালেখা শুরু করেন। করোনার কারণে তার সেই পড়ালেখার ছেদ পড়ে। এর মধ্যে তিনি গার্মেন্টসেও চাকরি করেন। আর্থিক সংকটের কারণেই তিনি টিউশনি করার বিজ্ঞাপন দিয়েছেন বলে জানান।
