সময়ের আলোচিত নাম হিরো আলম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তেই তিনি থাকেন আলোচনায়। তাকে নিয়ে ব্যস্ততা দেখা যায় সংবাদমাধ্যমগুলোতেও। পাশের দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও হিরো আলমকে নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। ফেসবুকে তার ফলোয়ার দুই মিলিয়নের বেশি। ইউটিউবে সাবস্ক্রাইবার দেড় মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। নিজেই জানিয়েছে, ইউটিউব থেকে তার মাসিক আয় তিন লাখ টাকা।
হিরো আলম সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছেন এফডিসির একটি ঘটনা নিয়ে। শুক্রবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দিন এফডিসি থেকে তাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন হিরো আলম। এর জন্য তিনি দায়ী করেন চলচ্চিত্র পরিচালক শাহীন সুমনকে।
এরপর এক ফেসবুক ভিডিওতে এসে বলেন, ‘এই সুশীল সমাজের লোকরা আমাকে মেনে নেবে না’। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে অনেক মানুষ দেখতে পারে না। সেই তারাই আবার আমার পেছনে লাগলেন। আপনারা কেউ কি বলতে পারবেন, আমার দোষ কী? কেন আমার সব কাজে বাধা দেন? কেন বারবার আমার পেছনে লাগছেন? আপনাদের কী ক্ষতি করলাম, একবার বলবেন?’
তিনি বলেন, ‘আমার চেহারা ভালো না, আমি সুন্দর করে কথা বলতে পারি না, আমি অভিনয় করতে পারি না’।
সর্বশেষ বুধবার হিরো আলম জানান, তিনি আর এফডিসিতে অভিনয় করবেন না। এবার থেকে তিনি কলকাতার হিরো হবেন।
হিরো আলমের এসব অভিযোগের সামাজিক মনস্তত্ত্ব বুঝতে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হয় কয়েকজনের সঙ্গে।
প্রথমেই জানতে চাওয়া হয় ‘সুশীল সমাজ’ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন।
এ বিষয়ে হিরো আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা বলে আমার সিনেমা হয় না, আমার কিছু হয় না তাদের আমি সুশীল সমাজ বলেছি’। এই ‘সুশীল সমাজ’ এফডিসির ভেতরে এবং বাইরে দু’জায়গায় আছে বলে তার মন্তব্য।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন বলেন, ‘সুশীল সমাজ আবার কী? বাংলাদেশের আপামর জনতা তাদের সর্বস্ব বাজি ধরে যুদ্ধ করেছে। কোনো সুশীল সমাজ বাংলাদেশের জন্ম দেননি। আক্ষরিক অর্থে দেখলে সিভিল সোসাইটি বলতে যা বোঝায়, সেটা হলো বেসামরিক সমাজ। এটা কোনো কৌলীন্য প্রথার নাম নয়। এসব কৃত্রিম কৌলীন্য প্রথা আমাদের পেছনে ঠেলে দেয়’।

জার্মান প্রবাসী গবেষক ও লেখক মারুফ মল্লিক বলেন, ‘আমাদের দেশে নাগরিক বিশেষ করে রাজধানীকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অভিজাতদের সুশীল বলে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সুশীল বা বুদ্ধিজীবী সমাজ বলতে যা বোঝায়, সেটা আমাদের দেশে ওই অর্থে নাই। তাই অভিজাতদেরই সুশীল বলে মনে করে থাকি। সুশীল বা সিভিল সোসাইটির যে কাজ তারা সেটা করে না। বরং এক ধরনের শ্রেণি অবস্থানকে তারা ধরে রাখে ও তাদের শ্রেণি চেতনা প্রবল। বাইরের কাউকে সমাজে জায়গা দিতে ভয় পায়। মজার বিষয় হচ্ছে বাইরে থেকে এসে যারা সুশীল শ্রেণিভুক্ত হয়, তারা আবার শ্রেণি চেতনা লালন শুরু করে। ফলে অভিজাত সুশীলের চক্র আর ভাঙে না’।
সুশীল সমাজ হিরো আলমকে মেনে নিতে পারেন না–তার এ অভিযোগ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সায়েমা খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলধারার গণমাধ্যম করপোরেট পুঁজির শক্তি এবং সুশীল সংস্কৃতিতে প্রতিষ্ঠিত। সমাজের স্ট্যাটাস কো রক্ষা করে বিনোদন থেকে মুনাফা তৈরি এর কাজ। হিরো আলমের নিম্নবর্গীয় ইমেজ নিয়ে সুশীলদের মধ্যে পুনঃ পুনঃ প্রত্যাখ্যাত হওয়া সেটাই প্রমাণ করে। নিম্নবর্গীয় তারকা যশ প্রত্যাশী ব্যক্তি নিজের সেলফ-ইমেজকে আমূল পাল্টে ফেলতে সক্ষম হলেই কেবল শ্রেণি ক্ষমতার এই গেট কিপিং পেরিয়ে যেতে পারেন এবং সুশীলদের কাতারে জায়গা করতে পারেন। তবে হিরো আলম যে, এই প্রত্যাখ্যানের সামনে আল্লাহ এবং রাষ্ট্রের চোখে সব মানুষ সমান বলে দাবি করেছেন, সেটাই তার হিরোইজম’!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ-আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পত্রিকায় পড়ে যেটা বুঝতে পারলাম, ‘সুশীল সমাজ’ বলতে হিরো আলম মূলত শিক্ষিত ও শহুরে ভদ্রলোকদের বুঝিয়েছেন। এই ভদ্রলোকেরা তাদের শ্রেণির বাইরের মানুষদের প্রতি সব সময় একটা জাত ঘৃণা পুষে রাখে। ফলে কথাবার্তায় অপটুত্ব ও ভাষায় আঞ্চলিকতার প্রভাব নিয়ে তাচ্ছিল্য করতে, এমনকি চেহারা নিয়ে বর্ণবাদী আচরণ করতেও তাদের বাধে না। তাকে ‘বাঁদর’ বলে তারা! সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি, হিরো আলমকে নিয়ে বিপুল পরিমাণে ট্রল করা হয়, এবং তা নিয়ে অশ্লীল আমোদের বন্যা বয়ে যায়! ভাবখানা এমন যেন হিরো আলমের ‘হিরো’ হওয়া সাজে না কোনোমতে, তাকে নিয়ে ‘বাঁদর নাচানোই’ যথার্থ!
তিনি বলেন, ‘শিক্ষিত ভদ্র সমাজের এ মানসিকতা ভয়ংকর। হিরো আলমের প্রতি তারা যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, সেই একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আমাদের বিপুল কৃষিজীবী গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি। আর, তাদের এ মানসিকতা গড়ে উঠেছে সমাজের ভেতরে থেকে আধুনিকতা জেগে না-ওঠার ফলে’।
মারুফ মল্লিক বলেন, ‘হিরো আলমের মতো গণ বা প্রান্তিক অবস্থান থেকে যারা উঠে আসে তথাকথিত সুশীলরা তাদের নিতে পারে না। আমাদের দেশে যাদের সুশীল বলা হয় তারা আসলে অভিজাত শ্রেণি। ফলে অভিজাতের সঙ্গে গণমানুষের ক্ষমতার প্রশ্নে দ্বন্দ্ব তো থাকবেই এবং চিরকালীন চর্চা’।
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক, অনুবাদক ইমরুল হাসান বলেন, ‘এখন শাহীন সুমন কি ‘সুশীল সমাজ’, বাংলাদেশের? না। হিরো আলম আলাদা কইরা বলছেন, ফিল্মের লোকজনও আমারে নিবে না। মানে, শাহীন সুমনরা আরেকটা ক্যাটাগরি। এফডিসি হইতেছে চলচ্চিত্র, আর ধরেন নিকেতন-বনানীর ফ্ল্যাটবাড়ির লোকজন যারা ওয়েব-সিরিজ বানায়, অরা হইতেছে ‘আর্ট-কালচার’ করা লোক, বা ‘সুশীল সমাজ’ এক রকমের; আগে যারা টিভি-নাটক বানাইত। মানে, ক্যাটাগরি হিসাবে হিরো আলম হইতেছেন, থার্ড-ক্লাস ক্যাটাগরির। বাংলা-সিনেমার মতো সেকেন্ড-ক্লাস ক্যাটাগরিতেও উনার জায়গা নাই’।
ইমরুল হাসান বলেন, ‘‘হিরো আলমের অবাক হওয়ার বা মন-খারাপ করার জায়গাটা আলাদা। এই যে সেকেন্ড-ক্লাস ক্যাটাগরির ‘এফডিসির চলচ্চিত্র’র লোক, অদেরকেই তো কেউ চিনে না, ইউটিউবে বা অনলাইনের দুনিয়াতে! (অইখানে হিরো আলমের ‘সুশীল সমাজ’রেও না পুছলে চলে। সুশীল সমাজের চেত’টাও হিরো আলমের উপর, এই জায়গাতেই।) অরা কিসের বেসিসে দেমাগ দেখায়! এইটা কোন কালচারাল দেমাগ না, র পলিটিক্যাল পাওয়ার আসলে। এইটারে হিরো আলম যে আইনিভাবে মোকাবেলা করার কথা বলতেছেন, সেইটা ‘সুশীল-কালচার’র উপর উনার ভরসা রাখা তো অবশ্যই, কিন্তু একইসাথে এইটাও কনফার্ম করে যে, র পলিটিক্যাল পাওয়ারের সমাজে এই ‘সুশীল’ জিনিসটা এগজিস্ট করে না। হাস্যকর ঘটনাই! হয়তো করুণ হাসির ঘটনা কিছুটা’’।

কবি সাদ রহমান বলেন, ‘‘হিরো আলম যে ‘সুশীল’ নামে একটা কাউকে নিয়া হঠাৎ আলাপ করলেন, আমার কাছে শুধু এইটাই বেশ ‘আশাব্যঞ্জক’ লাগল। বাস্তবে, হিরো আলম যাদের উদ্দেশ্য কইরা ‘সুশীল’ কথাটা বললেন, তাদের হইতে বাংলাদেশের আসল ‘সুশীল’দের দূরত্ব অনেকটাই বিপুল। যথা এইখানকার পাবলিক-প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট শিক্ষকজনেরা, বড় বড় পত্রিকাগুলার লেখকেরা, এনজিওগুলার বড় বড় কর্তারা, এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ক্যারিয়ার সম্পন্ন করা বিশেষ বিশেষ কয়েক ব্যক্তি। আমরা খেয়াল করছি, হিরো আলম কিন্তু সরাসরি ইনাদেরকে উদ্দেশ্য কইরা ‘সুশীল’ কথাটা বলেন নাই’’।
তিনি বলেন, ‘‘উনি ‘সুশীল’ কথাটা বলছেন মূলত এফডিসিতে উনার বিরোধী কিছু ছোটখাটো মাফিয়া বা ‘দখলকারী’দের ব্যাপারে। যাদের নিয়ে এমনকি, বাংলাদেশের আসল ‘সুশীলে’রা আলাপ করতেও লজ্জা পাবেন। সত্যিই, আমরা কিন্তু দেখি না—হিরো আলম তো দূরে থাক, বরং এফডিসি, বা এফডিসির কোন সমস্যা, ভোট, নির্বাচন বা হাল-দশা নিয়া আমাদের আসল ‘সুশীল’রা কোন কথা বা বক্তব্য রাখছেন! হিরো আলম এবং ‘অভদ্রজন’র হাতে চইলা যাওয়া এফডিসি থেকে তারা যথাযথ দূরত্ব বজায়েই রাখেন। কিন্তু আয়রনিটা হইলো—হিরো আলম এই আসল ‘সুশীল’দের উদ্দেশ্য কইরা কথাটা বলুন আর না বলুন, কিন্তু উনি যখন বলতেছেন, ‘এই সুশীল সমাজের লোক আমাকে মেনে নেবে না’—তখন স্বাভাবিকভাবেই এই আসল সুশীলদের বিবিধ ‘দূরত্ব বজায় রাখা’র সুশীল-চিত্রগুলাও আমাদের গোচরে চইলা আসতেছে।
সাদ আরো বলেন, ‘এবং হিরো আলমের এই বক্তব্যের ফলে ইনারাও কমবেশি আড়ষ্ট বোধ করতেছেন। আমার ধারণা। তাই বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির দিক থেকে, এটা একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা। দ্বিতীয়ত, আরেকটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হইলো, হিরো আলম যেই নকল অর্থাৎ এফডিসির ‘সুশীল’দের নিয়া কথাটা বললেন, সেই নকল সুশীলেরাও মূলত কী কাণ্ড করছিলেন সেইটা যদি আমরা ভাবতে বসি। এই নকল ‘সুশীল’রা আসলে এফডিসির ভিতরে হিরো আলমের বিরুদ্ধে ‘সুশীল’র সংস্থা হইয়াই কাজ করছিলেন। অর্থাৎ ‘সুশীল’র মতোই সুবিধা নিতে চাইছিলেন। আমরা বুঝতে পারছি। হিরো আলমকে আমরা বলতে শুনছি, উনি ‘ভালো’ কোন নায়িকাকে তার ছবিতে চাইলেও নিতে পারেন না। কারণ সেক্ষেত্রে, সেই নায়িকাকে তার বিরোধীপক্ষের লোকেরা বলেন, ‘আরে তুমি হিরো আলমের ছবিতে কাজ করবা, তোমার তো একটা মান-মর্যাদা আছে, নাকি?’ এইসব মান-মর্যাদার ভয় আর চেহারারক্ষার খেলা যে নিছকই ‘সুশীল’র খেলা, তা আমরা জানতাম।
বুদ্ধিজীবী শেখ সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘হিরো আলমের ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারলাম তাকে অপমানজনকভাবে এফডিসি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কারা তাকে বের করে দিল, কেন? এ প্রশ্নগুলো কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করতে পারি। অনেকে হয়তো হাসবে এই ভেবে যে, হিরো আলমকে এফডিসি থেকে বের করে দেবে না তো চুমু খাবে? যাদের কাছে হিরো আলমকে এফডিসি থেকে অপমান করে বের করে দেওয়া কোনো সমস্যা না, বরং সমর্থনই করে তাদের উদ্দেশ্য করেই হয়তো হিরো আলম বলেছে ‘এই সুশীল সমাজের লোকরা আমাকে মেনে নেবে না’। আর এই সুশীল সমাজেরই একজন প্রতিনিধি হিসেবে হয়তো হিরো আলমকে এফডিসি থেকে বের হয়ে যেতে বলেছেন পরিচালক শাহীন সুমন’।

তিনি বলেন, ‘‘হিরো আলম যাদের ‘সুশীল সমাজ’ বলে চিহ্নিত করলেন এই সমাজে কারা বসবাস করেন? এই সমাজের রূপ কেমন? হিরো আলমের মুখের ভাষা থেকেই এই সুশীল সমাজের ছবিটি আঁকতে পারব আমরা। হিরো আলমের ক্ষোভ এই সুশীল সমাজের লোকেরা তাকে সবসময়ই অপমান-অপদস্থ করে। এরা উঁচু-নিচু মানুষের ভেদাভেদ করে, মানুষের সঙ্গে বিনয়ী হয়ে কথা বলে না। হিরো আলমের বয়ান থেকেই স্পষ্ট বুঝা যায় তার চেহারা ও আর্থিক অবস্থার কারণে তাকে ‘সুশীল সমাজ’র লোকেরা মেনে নিচ্ছে না, অপমান, অপদস্থ করছে। তবে হিরো আলম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন, তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন, তিনি গরীব বলে, চেহারা কুৎসিত বলে কি তাকে অপমান করার অধিকার আছে এই ‘সুশীল সমাজ’র?’’
সাদ্দাম বলেন, ‘আমি মনে করি কালোকে কালো বলা যাবে, গরীবকে গরীব বলা যাবে কিন্তু কালোকে কালো বলে আর গরীবকে গরীব বলে চিহ্নিত করা আর অপমান করা দুইটা ভিন্ন জিনিস। আমি দেখতে পাচ্ছি হিরো আলম আমাদের যে সুশীল সমাজের বর্ণনা দিলেন এই সুশীল সমাজ বর্ণবাদী ও সবার জন্য সমান সুযোগসুবিধা ব্যবস্থার বিরোধী’।
তবে তিনি বলেন, ‘সুশীল সমাজ’ হিরো আলমকে গ্রহণ করতে বাধ্য না। কেও কারো সঙ্গে মিশতে না চাইতে পারে। হিরো আলমও সুশীল সমাজকে গ্রহণ না করতে পারে। কিন্তু একজন ব্যক্তিকে তার গায়ের রঙ, ভাষাভঙ্গি ও অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে অনেকে মিলে অপমান-অপদস্থ করা হয় যে সমাজে সে সমাজে সমস্যা আছে এ কথা এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই’।
সার্বিক বিষয়ে সেলিম রেজা নিউটন বলেন, ‘হিরো আলমের ভিডিও দেখে মন খারাপ হলো। খুবই বেদনাদায়ক সত্য তিনি উচ্চারণ করেছেন। আল্লাহ’র সামনে, গোটা দেশের সামনে। তাকে অবশ্যই সসম্মানে এফডিসিতে কাজ করার অধিকার দিতে হবে। তাকে যারা অসম্মান করেছেন কটু কথা বলেছেন, তাদের নিজেদের আত্মসম্মানবোধের নমুনাই তাতে করে ফুটে উঠেছে। কোনো মানুষকেই অসম্মান করার কোনো অধিকার অপর মানুষের নাই। বাংলাদেশ সবার। সবাইকে পূর্ণ মর্যাদাসহকারে কাজ করতে দিতে হবে। জাতপাতের বর্ণাশ্রম প্রথা, দাস প্রথা, আশরাফ-আতরাফ এগুলো কুপ্রথা, এগুলো নতুন করে কায়েম করার চেষ্টা অত্যন্ত আপত্তিকর, হাস্যকর। আপামর মানুষের জাগরণ না ঘটলে আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের দিকে এগোতে পারব না। হিরো আলমকে তার অভিযোগ মোতাবেক যারা অপমানজনক কথাবার্তা বলছেন, এফডিসি কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের ডেকে নিয়ে ভর্ৎসনা করা’।

