দেশজুড়ে বায়ুদূষণ বেড়েই চলছে। বড় বড় শহর ছাড়িয়ে এই দূষণ এখন মফস্বলেরও আতঙ্ক। দেশের জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বায়ুদূষণ পরিমাপ করা হয়েছে গাজীপুরে। আর সর্বনিম্ন বায়ুদূষণ পরিমাপ করা হয়েছে মাদারীপুরে। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ক্যাপস এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে।
বায়ুদূষণের দিক দিয়ে গাজীপুরের পর ঢাকা দ্বিতীয় এবং নারায়ণগঞ্জ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে উঠে এসেছে তাদের গবেষণায়। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, ক্যাপস ৬৪ জেলার বায়ুমান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পর্যালোচনা করে। গবেষণা থেকে দেখা যায়, ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার সর্বমোট ৩ হাজার ১৬৩টি স্থানের গড় অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ১০২.৪১ মাইক্রোগ্রাম। এটি দৈনিক আদর্শ মানের (৬৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে প্রায় ১.৫৭ গুণ বেশি।
আহমদ কামরুজ্জামান জানান, সমীক্ষায় দেখা যায় গাজীপুরে এর পরিমাণ ছিল প্রতি ঘনমিটারে ২৬৩ দশমিক ৫১ মাইক্রোগ্রাম। পাশের জেলা ঢাকায় ২৫২ দশমিক ৯৩ এবং নারায়ণগঞ্জে ২২২ দশমিক ৪৫ মাইক্রোগ্রাম। এই তিন শহরের বাতাসে দূষণের মাত্রা গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারকাজ, মেগা প্রকল্প, আশপাশের ইটভাটা, ছোট-বড় কয়েক হাজার শিল্পকারখানা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং ময়লা-আবর্জনা পোড়ানো এই তিন শহরে দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ক্যাপস।
বায়ুদূষণের দিক দিয়ে ওই তিন জেলার পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কিশোরগঞ্জ। অন্যদিকে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে কম ছিল মাদারীপুরে, প্রতি ঘনমিটারে ৪৯ দশমিক শূন্য ৮ মাইক্রোগ্রাম পিএম ২.৫ পাওয়া গেছে সেখানে।
