আমাদের দেশে ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ শব্দই তো নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:৪৩ পিএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন বলেছেন আমাদের দেশে এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স শব্দই তো নেই! আমরা চাই না কাউকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা চাই প্রত্যেকের আইনের মাধ্যমে বিচার হবে।

শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটা-দুইটা দুর্ঘটনা ঘটে যেগুলোর খবর আমরা ঠিক মতো পাই না। যেমন আমরা অনেক দিন ধরে জানি হারিছ আলী সাহেব গুম হয়ে গিয়েছিলেন। এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স। এখন দেখি না, উনি দেশেই ছিলেন এবং দেশেই নাকি মারা গেছেন। তার মেয়ে বলেছে।

তিনি বলেন, আমরা এক সময় দেখলাম, একজন নেতা তিনি দেশে নেই, তারপর ইন্ডিয়ার হোটেল থেকে ইন্ডিয়ানরা তাকে ধরলো। ওই সব গুম-খুন বলা হয়, কতটুকু সত্য তা আমরা ঠিক জানি না। একটা লোক গুম হোক, একটা লোক খুন হোক আমরা চাই না।

তিনি বলেন, আমেরিকায় প্রতি বছর হাজার খানেক লোকের বিনা বিচারে মৃত্যু হয়। পুলিশ মেরে ফেলে। প্রতি বছর তার দেশে লাখ খানেক লোক নিখোঁজ হয়, ওইটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। আমরা চাই আমাদের দেশে একটি লোকও...আমাদের দেশে এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স শব্দই তো নেই! আমরা চাই না কাউকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা চাই প্রত্যেকের আইনের মাধ্যমে বিচার হবে। মাঝে মাঝে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ এসব করে। পৃথিবীর সব দেশেই হয়, কম-বেশি। আমাদের এখানে অন্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম হয়।

তিনি বলেন, যেহেতু আমরা পলিটিক্যালি-স্ট্রাটিজিক্যালি খুব ভালো অবস্থানে আছি, আমাদের আশে পাশের বড় বড় দেশ এবং আমাদের সমুদ্র অ্যাকসেসের জন্য অনেক বেশি উদ্বিগ্ন, সেই জন্য এখন আমরা সবার চক্ষুসূল। আসল উদ্দেশ্য কিন্তু হিউম্যান রাইটস না। আসল উদ্দেশ্য গুম-খুন না। আসল উদ্দেশ্য এসব চাপ দিয়ে কিছু ফায়দা সংগ্রহ করা যায় কি না।

তিনি বলেন, বিদেশিরা বলেন, বাংলাদেশ নাকি চীনের লেজুর হয়ে যাচ্ছে। কারণটা তারা বলেন, বাংলাদেশ চীনের ডেথ ট্র্যাপে পড়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার মতো। ডেথ ট্র্যাপ হতে হলে ৪০ শতাংশ ঋণ নিতে হবে। আমাদের দেশের সর্বমোট ঋণ হলো ১৫ শতাংশের কিছু বেশি। ১৬ শতাংশের মতো। এখনো অনেক দূর। আর যদি দেশগুলো দেখেন, প্রতিষ্ঠান দেখেন, আমরা সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলোপমেন্ট ব্যাংক এবং আইএমএফ থেকে। প্রায় ৭৩ শতাংশের বেশি। পরবর্তী সবচেয়ে বেশি যে দেশ থেকে আমরা ঋণ নিয়েছি সেটা হলো জাপান। চীন তো ধারের কাছেই নেই, ৫ শতাংশের কিছু বেশি। আমাদের কিছু জ্ঞানপাপী বলে বেড়ান, বাংলাদেশ সতর্ক হও। বলা হয়, আমরা চীনের লেজুর হয়ে যাচ্ছি কারণ আমাদের নাকি ৮০ শতাংশ মিলিটারি ইকুইপমেন্ট চীন থেকে কেনা। এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা। আমরা যা কিনি সব দেশ থেকেই কিনি। সব জায়গা থেকে কিছু কিছু করে কিনি, ভারতও আমাদের দিতে চাচ্ছে। আমাদের আর্মিরা জানে কী কিনবে।

তিনি বলেন, আরেকটি কথা উঠেছে, চীন আমাদের তিস্তা ব্যারেজের জন্য টাকা দিচ্ছে। তিস্তা ব্যারেজ একটা প্রকল্প, ১৯৮৮ সালে যখন বড় রকমের বন্যা হয় তখন ফ্রেঞ্চ সরকার এসেছিল, বাংলাদেশে বন্যা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় তার জন্য তারা পরিকল্পনা করেছিলেন। ৫-৬ বিলিয়ন ডলার, অত টাকা কেউ দেয়নি। তার একটি অংশ ছিল তিস্তা ব্যারেজ। এখন চীন নাকি উৎসাহ দেখিয়েছে, আমাদের বলেনি, তারা নাকি পয়সা দিতে চায়। আর যায় কোথায় গেল গেল বাংলাদেশ চীন হয়ে গেল। এ ধরনের একটি ভয় তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের অনেক জ্ঞানপাপী এই ভয়টা তৈরি করছেন।

আমেরিকা থেকে নতুন করে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসবে না, এ রকম কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আমি জানি না। যিনি বলেছেন, তিনি ভালো জানেন। আই ডোন্ট নো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত