গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক ক্যুর কয়েক দিনের মাথায় দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেনাবাহিনী সাধারণ প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে। এতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। মিয়ানমারের আরও অনেকের মতো প্রতিবাদমুখর এই সময় প্রত্যক্ষ করছিলেন দেশটির এক শান্তিপ্রিয় কবি মাউঙ সউঙ্খা। শুরুর দিকে তিনি ভেবেছিলেন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে জান্তার বিরুদ্ধে জবাব দেওয়াই হবে উত্তম পদক্ষেপ। কিন্তু একটা সময় তিনি বুঝতে পারেন, রক্তপিপাসু এই জান্তাকে শায়েস্তা করতে সশস্ত্র বিপ্লবের বিকল্প নেই। তাই শান্তিপ্রিয় কবি থেকে তিনি হয়ে উঠলেন বিপ্লবী এক সৈনিক।
প্রতিবাদকারীদের অনেকেই বিভিন্ন সশস্ত্র দলে যুক্ত হতে শুরু করে গোপনে। আর মাউঙ সেই রাস্তায় না গিয়ে নিজেই নতুন বৈপ্লবিক দল খুলে বসলেন।
গত বছরের মার্চে মাউঙ মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলে চলে যান। সেখানে তিনি মাত্র ১৭ জন নিয়ে গঠন করেন বামার পিপলস লিবারেশন আর্মি। অন্যের বিরুদ্ধে বিপ্লব করার আগে নিজের আবেগ অনুভূতির সঙ্গে বিপ্লব করার প্রয়োজন মনে করলেন তিনি। টানা তিন মাস ধরে চলল কঠিন প্রতিক্ষণ। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থার খুটিনাটি শেখা থেকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার বিদ্যা অর্জন করতে হয় মাউঙ ও অন্যদের। দিনে মাত্র দুইবার আহার করে শরীরকে কষ্ট দিয়ে আগামীর কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুতি নেন তারা।
চলতি মাসে মাউঙের দল স্থানীয় একটি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপারেশন শুরু করেছে। দ্যা গার্ডিয়ানকে মাউঙ তার জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ের কথা বললেও, জান্তার বিরুদ্ধে পরিচালিত অপারেশন নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি। ২০১২ সালে মিয়ানমার যখন রাজনৈতিক অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল তখন মাউঙ ছিলেন সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় তাকে কারাবরণ করতে হয় একটি কবিতা লেখার কারণে। সেসময় তিনি প্রেসিডেন্টকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখেছিলেন। ২০১৬ সালের মে মাসে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই মাউঙ মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রশ্নে সরব ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। মিয়ানমারের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুরু করেন তিনি।
