ভারতের কর্নাটকের উদুপির প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছয় জন মুসলিম ছাত্রীর নাম-ঠিকানা এবং ফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ফেসবুক-টুইটারসহ স্যোশাল মিডিয়ায় কে বা কারা যেন ছড়িয়ে দিয়েছে। ওই ছয় ছাত্রীর বাবা-মা পুলিশে এই অভিযোগ করেছেন।
উদুপি জেলার পুলিশ সুপার এন বিষ্ণুবর্ধনের কাছে এক লিখিত অভিযোগে বাবা-মায়েরা তাদের মেয়েদের মোবাইল নম্বর সহ ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ছড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অভিভাবকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাদের মেয়েদের হুমকি দেওয়ার জন্য এসব তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে।
পুলিশ সুপার বিষ্ণুবর্ধন বলেছেন, মেয়েদের বাবা-মায়েরা তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অনলাইনে তাদের মেয়েদের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ চাওয়া হয়েছে এবং তা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের বিভিন্ন স্কুল কলেজে হিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতির দাবিতে আন্দোলন করছে মুসলিম ছাত্রীরা।
কর্ণাটকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে, গত ডিসেম্বরে উদুপি জেলার কুন্ডাপুর সরকারি বালিকা পিইউ কলেজে ছয়জন মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বসতে বাধ্য করার পর।
সেই সময় কলেজ প্রশাসন জানায়, ইউনিফর্মের অংশ নয় হিজাব এবং ওই ছাত্রীরা কলেজের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। এরপর ছাত্রীদের ক্লাসে হিজাব পরার বিষয়ে আপত্তি জানায় হিন্দুত্ববাদী এবং ডানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও তাদের ছাত্র সংগঠন।
উদুপির এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যের মান্দিয়া এবং শিভামোগগা এলাকায়। সেখানকার কলেজ কর্তৃপক্ষও হিজাব নিষিদ্ধ করে।
এর পর কর্নাটক রাজ্যের অন্যান্য হাইস্কুল ও কলেজেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু কলেজে হিন্দু ছাত্ররা গেরুয়া চাদর বা স্কার্ফ পরে ক্লাসে আসতে শুরু করে। হিন্দুত্ববাদী ছাত্র ও ছাত্রীরা তাদেরই সহপাঠীদের হিজাব পরার বিরুদ্ধে মিছিল বের করে।
কর্নাটক রাজ্যের কয়েকটি শহর থেকে বেশ কিছু সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
পরে উদুপির একটি প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রী হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদলাত এই বিষয়ে এখনো কোনো চুড়ান্ত রায় দেয়নি। হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞাও বহাল রয়েছে। আগামী সোমবার কর্নাটক হাইকোর্টে ৩ জন বিচারপতির একটি বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে।
