লতাকে মা মেনে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান করলেন অমল দরজি

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:২১ পিএম

ছোটবেলা থেকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করেন লতা মঙ্গেশকরকে। তাই শিল্পীর প্রয়াণের পর ছেলের কর্তব্য পালন করেছেন ভারতের হাওড়ার অমল বিলুই নামে এক দরজি।

সনাতন মতে তিনি মাথা নেড়ে করে ধর্মীয় সমস্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এই সময়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লতা মঙ্গেশকরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর শোনার পর থেকেই মনটা খচখচ করছিল হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের দরজি অমল বিলুইয়ের। তবুও মনকে আশ্বাস দিচ্ছিলেন প্রিয় শিল্পী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসবেন। তা আর হয়নি। গত রবিবার সকাল প্রায় সাড়ে নয়টায় তিনি পরলোক গমন করেন। অন্যান্য দিনের মতো দোকানে বসে লতা মঙ্গেশকরের গান শুনতে শুনছিলেন তিনি। হঠাৎ এক বন্ধুর ফোনে যেন আকাশ ভেঙে পড়ে অমলের মাথায়। জানতে পারেন লতা মঙ্গেশকর আর নেই। প্রয়াত মাতৃসম শিল্পী।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোনো রকমে দোকান বন্ধ করে সোজা বাড়িতে চলে এসেছিলেন অমল। আজীবন মায়ের মতো শ্রদ্ধা করেছেন লতা মঙ্গেশকরকে। তাই মায়ের প্রয়াণে যেভাবে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করতে হয়, তাই করলেন হাওড়ার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার সকালে হিন্দু ধর্মমত অনুযায়ী নেড়া হয়ে স্নান করে ঘাট কাজ করেন অমল বিলুই। শুক্রবার শ্রাদ্ধশান্তির আয়োজন করেন। শনিবার করবেন নিয়ম ভঙ্গ পালন। তার সাধ্যমতো লোকও খাওয়াবেন অমল।

অমল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘লতা মঙ্গেশকর ছিলেন আমার মায়ের মতো। খবর শোনার পর সারা দিন কেঁদেছি। ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করতে পারিনি। মন মেজাজ খুবই খারাপ ছিল। তার আত্মার শান্তির জন্য এইটুকু করতে পারলে আমার মন শান্তি পাবে।’

অমল আর জানান, ১২ বছর বয়সে স্কুলে পড়তে পড়তেই তিনি লতা মঙ্গেশকরের গানের ভক্ত হয়ে পড়েন। পথে ঘাটে দোকানে যেখানেই তিনি লতার শুনতে পেতেন সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়তেন। বেশ কয়েক বছর এভাবে চলতে থাকে। পরে তিনি টাকা জমিয়ে বাড়িতে একটি রেকর্ড প্লেয়ার কেনেন। পরে টেপ রেকর্ডার। এখন তো মোবাইলেই গান শোনেন।

তিনি বলেন, লতার ২০০টি রেকর্ড, ৫০০টি ক্যাসেট কিনেছিলাম। এখন যদিও সেসব নষ্ট হয়ে গেছে। লতাজির গানে আমি মায়ের ভালোবাসার অনুভূতি পাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত