মিয়ানমারের জান্তাকে অস্ত্র দিচ্ছে কারা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৪০ পিএম

মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন জান্তাকে যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে রাশিয়া, চীন ও সার্বিয়ার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক আইনপ্রণেতা ও বর্তমানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিভাগের বিশেষজ্ঞ থমাস অ্যান্ড্রুজ এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ করেছেন। দেশটিতে সহিংসতা বন্ধে এ তিন দেশকে মিয়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন মিয়ানমারে সহিংসতাবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন থমাস অ্যান্ড্রুজ। সেখানে তিনি বলেন, ‘যারা (মিয়ানমার জান্তাকে) অস্ত্র সরবরাহ করছে, তারা ভালোভাবেই জানে যে এসব অস্ত্র মিয়ানমারের সাধারণ বেসামরিক লোকজনদের হত্যার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সুতরাং যারা দেশের টাকায় অস্ত্র কিনে তা সাধারণ নাগরিকদের হত্যার জন্য সেই অস্ত্র ব্যবহার করে, তাদের কাছে কারোরই অস্ত্র বিক্রি করা উচিত নয়।’

গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উচ্ছেদ করে জাতীয় ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান মিং অং হ্লেইং এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পরপরই জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় দেশটিতে। বিক্ষোভ দমনে প্রথম দিকে লাঠি, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, জলকামান ব্যবহার করলেও একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেয় সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া দেশটির নানা প্রান্তে বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংঘাতের জেরে অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে কমপক্ষে তিন লাখ মানুষ। মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও জাতিসংঘ গত কয়েক মাস ধরে অভিযোগ করে আসছে, সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে উচ্ছেদের নামে সাধারণ বেসামরিক এলাকাগুলোতে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জান্তা কর্র্তৃপক্ষ অবশ্য বলেছে, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ‘সন্ত্রাসীদের’ সঙ্গে লড়ছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কর্মকর্তারা।

থমাস অ্যান্ড্রুজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে মিয়ানমারের জান্তাকে ড্রোন, দুই ধরনের যুদ্ধবিমান, দুই ধরনের সাঁজোয়া যান সরবরাহ করেছে রাশিয়া; চীন সরবরাহ করেছে যুদ্ধবিমান ও সার্বিয়া সরবরাহ করেছে রকেট ও গোলাবারুদ। গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত