যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে একটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতি মাসে ২০ হাজার ডলারে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এক বছরের চুক্তি করা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তিনি বলেন, ‘নেলসন মুলিন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে অতিসম্প্রতি এক বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছি আমরা। আশা করি, প্রতিষ্ঠানটি দুই দেশের সম্পর্ক গভীর ও বেগবান করতে সহায়তা করবে।’
বৃহস্পতিবার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের ও বাণিজ্যবিষয়ক বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এসব আলোচনা তথ্য কিংবা অন্য কোনো ঘাটতি দূর করতে সহায়ক হবে।’
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজিআর (ওয়াশিংটনভিত্তিক লবিস্ট প্রতিষ্ঠান) বাদ দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর তথ্য জানাবে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সহায়তা করবে।
শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘সামান্য যে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা, তাতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) প্রয়োজন কিনা, তা আমার জানা নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের পর স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাসে ২০ হাজার ডলার চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির (নেলসন মুলিন্স) সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানটির কাজ কী হবে জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘মূলত দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন মূল কাজ। মার্কিন প্রশাসন ব্যাপক জায়গা। আমাদের এখানে যেমন বিদেশি কেউ এলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে ঠিকানায় পৌঁছে যান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আলাদা। একটি দূতাবাস ও চার-পাঁচজন কর্মকর্তা দিয়ে সব জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। সরকারি পর্যায়ের সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি নতুন জায়গায় পৌঁছাতে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।’
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আছে বলে এটা করা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘নট অ্যাট অল। চাপে নয়। বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা ও বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার বন্ধ করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানটিকে লবিস্ট প্রতিষ্ঠান বলা যাবে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই বলা যাবে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার র্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশের হয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেন শাহরিয়ার আলম।
ওই দিন তিনি বলেন, ‘র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। (বিষয়টি সুরাহার জন্য) আমাদের হয়ে কথা বলার জন্য মামলা লড়তে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে।
চূড়ান্তভাবে আইনি পদক্ষেপের দিকে যাব কি না, সেটা এখনই বলব না। তবে আমরা তিনটি আইনি পরামর্শক সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছি। সেখান থেকে সবচেয়ে ভালো পরামর্শটি নিয়ে এ সপ্তাহে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
