চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১ হাজার টন অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। সে সময় যদি সব পক্ষ শান্তি আলোচনায় এগিয়ে আসত, ইউক্রেন ইস্যুর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করত, একে অপরের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করত, বিষয়টি সুনজরে দেখত, পরিস্থিতি নমনীয় করার জন্য যুক্তিসংগত ও সঠিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করত, তাহলে কি এখনকার ঘটনা ঘটত?’
গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউক্রেন ইস্যুতে এসব কথা বলেন তিনি। খবর: পিপলস ডেইলি
হুয়া চুনিং বলেন, যুদ্ধের উসকানি দেওয়ার যেকোনো কাজের বিরোধিতা করে চীন। উত্তেজনা না বাড়াতে সব পক্ষকে বোঝানোর পাশাপাশি উসকানি না দেওয়ার জন্য শুরু থেকেই বেইজিং দায়িত্বশীল মনোভাব নিয়েছে।
হুয়া চুনিং বলেন, এই উত্তেজনার জন্য যে দায়ী (কালপ্রিট), তার এখন ভেবে দেখা উচিত, অন্যদের দোষারোপ না করে কীভাবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে এই আগুন নেভানো যায়।
ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হুয়া চুনিং বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করার বিষয়ে কী করতে হবে, তা চীনকে বলার যোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘এমনকি আজও, এখনো আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার তথাকথিত মিত্রদের কাছ থেকে বাস্তবিক হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি। তারা চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বেচ্ছাচারিতামূলক হস্তক্ষেপ করছে। তারা জিনজিয়াং, হংকং, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে চলছে।’
হুয়া চুনিং বলেন, এ কারণেই চীন সব সময় দৃঢ়ভাবে জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য-নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক রীতিনীতিকে সমর্থন করে। দৃঢ়ভাবে সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার রক্ষা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ আনেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, এসব সামরিক হস্তক্ষেপ চালানোর জন্য অজুহাত হিসেবে কখনো গণতন্ত্র বা মানবাধিকার, কখনো শুধু লন্ড্রি পাউডারের একটি ছোট বোতল বা একটি ভুয়া খবরকে ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় গতকাল ভোরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন পুতিন। তার এই নির্দেশের পরই ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া।
