বশেমুরবিপ্রবির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

আন্দোলন বন্ধ করতে ‘ছাত্রলীগের নম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের মেরে ফেলার হুমকি’

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:৩১ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন বন্ধ করতে মুখপাত্রদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজু বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঘোনাপাড়ায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার পর থেকেই ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন বন্ধ করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন করে গালিগালাজ ও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অতিসত্বর আন্দোলন বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে আমাদের দেখে নেওয়ার কথাও বলছে হুমকিদাতারা। বিভিন্ন অঞ্চলের মেসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তা সত্ত্বেও আমাদের চার দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, যে ফোন নম্বরগুলো থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে তা বিভিন্ন অ্যাপ দিয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি। সেগুলো গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা কর্মীদের। হুমকির বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি।

তবে হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লা বলেন, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। কে বা কারা এগুলো করছে তা আমাদের জানা নেই।

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিবারের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১২টায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জেলার, জল্লাদ, ফাঁসিপ্রাপ্ত আসামি সেজে দোষীদের প্রতীকী ফাঁসি দেওয়া হয়। পরে ফাঁসির দড়ি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এদিকে ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিকেল ৩টায় মেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, বাইরে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে আমরা সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। বিভিন্ন এলাকার মেস মালিকদের সঙ্গে কথা বলছি।

আন্দোলনকারীদের হুমকির বিষয়ে প্রক্টর বলেন, শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে আমাদের অবগত করেছে। যে ফোন নম্বরগুলো থেকে হুমকি এসেছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

রবিবার বিকেল পাঁচটায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চনাটক উপস্থাপন করা হয়েছে। মঞ্চনাটকের পরিচালনায় ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুস সাঈদ এবং বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন পিউ মৃধা, অনন্যা শরিফ মিষ্টি, সিফাত, আবু জাহিদ, বিএম মারিয়া আলমসহ অনেকে।

এদিকে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ৬ আসামিকে রবিবার বিকেল ৩টায় গোপালগঞ্জে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ুন কবির, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানা লিপি ও মো. শরীফুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়।

এ সময় পুলিশ ১৬৪ ধারায় জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শীতল চন্দ্র পাল।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে রাকিব মিয়া ওরফে ইমন (২২), পিয়াস ফকির (২৬), প্রদীপ বিশ্বাস (২৪), মো. নাহিদ রায়হান (২৪), মো. হেলাল (২৪) এবং তূর্য মোহন্তকে (২৬) গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাবের গ্রেপ্তারের আগে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিয়াস সিকদার (২২), অন্তর (২১) ও জীবন (২০) নামে তিনজনকে আটক করেছিল। এ তিনজনকেও এদিন বাকি ছয় আসামির সঙ্গে আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে নয়টার পরে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক ছাত্রী (২২) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন। এই আন্দোলনে ‘ছাত্রলীগ’ ও স্থানীয় দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরসহ কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে আহত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত