ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

বশেমুরবিপ্রবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:১৬ পিএম

ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) বিদেশি শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন।

তারা বলছেন, তারা ক্যাম্পাসে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আজ সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়বাংলা চত্বরে ‘জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড’ ব্যানারে বিদেশি শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সোমালিয়ান শিক্ষার্থী আদম বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়ানো উচিত। আমরা ধর্ষকদের ফাঁসি চাই। এখানে কোনো নেগোসিয়েশন হবে না।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের নেপালি শিক্ষার্থী বিবেক করণ বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মেয়েরা স্বাধীন নয়। আমরা ধর্ষণমুক্ত সমাজ চাই।

আরেক নেপালি শিক্ষার্থী অস্পিতা কার্তিক বলেন, আমরা এখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তবে এই দেশের বিচারব্যবস্থায় আমরা এখনো বিশ্বাস করি। এই ঘটনায় জড়িত ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আজ সকাল সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মঞ্চ থেকে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পঞ্চম দিনের আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

পরে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে, মিথ্যা তথ্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করার জন্য একটি ইলেকট্রনিকস মিডিয়াকে বয়কট করে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও আন্দোলনে হামলাকারীদের আইনি আওতায় আনার দাবি জানান।

এ ছাড়া বিকেল সাড়ে চারটায় মুখে কালো কাপড় ও হাত বেঁধে ধর্ষকদের প্রতি ঘৃণা এবং ধর্ষণের বিচার চেয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বৈঠকের মাধ্যমে মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে, তবে ভর্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। এ পর্যন্ত ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে আদালতের মাধ্যমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত