বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করাটা প্রধানমন্ত্রী ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আসলে আওয়ামী লীগ জেনেটিক্যালি মিথ্যাবাদী স্বৈরশাসক।’
বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।
রিজভী বলেন, ‘জয়ের একটি মেগা প্রজেক্ট বিনা টেন্ডারে পাশ করিয়ে দেয়ার ব্যাপারে শলা-পরামর্শের কলরেকর্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর দেশের মানুষ যখন ফুঁসে উঠছে, এ অবস্থায় জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করতে নির্লজ্জ-নিরেট মিথ্যাচারের বেসাতিতে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা জয়। তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বহু বছরের পুরানো একটি ভুয়া, হাস্যকর ভিডিও আপলোড করেছেন। দাবি করেছেন, তারেক রহমান উৎকোচ চাওয়ার কারণে নাকি ২০০৫ সালে ভারতের টাটা কোম্পানি বাংলাদেশে তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছিল!’
বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘টাটা কোম্পানির বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সবচেয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বাধীন বামপন্থীদের বড় প্ল্যাটফরম তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। তারা লাগাতারভাবে বিক্ষোভ-সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচী, সভা-সেমিনার কর্মসূচিতে রাজপথে উত্তাপ ছড়ায়। তাদের সঙ্গে সেই সময়ের বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সরাসরি সংযুক্ত ছিল এবং তারা যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করতো। বিএনপি সরকারের সময় টাটা বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাহার করেনি। বরং তৎকালীন গনমুখী বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনগণের বিরোধিতার কারণে বাংলাদেশ টাটার বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার চলে যাওয়ার পর ওয়ান-ইলেভেনের সরকার ক্ষমতায় আসার পর টাটা তৎকালীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেই সরকারও তাদের বিনিয়োগের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ৩০ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় টাটা। বিবিসি এবং জার্মান সম্প্রচার মাধ্যম ডয়চে ভেলের ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই প্রকাশিত সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০৮ সালের মে মাসে টাটা সন্সের পরিচালক এলান রোজলিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সর্বশেষ বিনিয়োগ বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা না দেওয়ায় টাটা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘টাটা যখন নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে যে তাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় তারা বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছে। অথচ সজিব ওয়াজেদ জয় দীর্ঘদিন পর আবিষ্কার করেছেন যে, উৎকোচ চাওয়ার কারণে নাকি টাটা বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে।’
