প্রেমিক প্লাবন ঘোষের (২৪) ফোনকলেই জান্নাতুল নওরিন এশা (২২) আত্মহত্যা করেছেন বলে জানতে পারেন মা সানজিদা আক্তার। তিনি আরও জানান, আত্মহত্যার সময় তারে মেয়ে প্লাবনের সঙ্গে ভিডিও কলে ছিল।
রবিবার এশার মা ও আলোচিত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদা আক্তার (৪৮) সাংবাদিকদের কাছে এসব দাবি করেন। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারেও তিনি এসব কথা উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে খুলনায় হত্যা মামলায় সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
শুক্রবার ভোরে রাজধানীর গুলশানের শাহজাদপুরের সুবাস্তু টাওয়ারের বাসায় এশা আত্মহত্যা করেন। এশা টিকটকে সক্রিয় ছিলেন। টিকটকে তার কয়েকটি ভিডিও দেখা যায়।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় প্রেমিক প্লাবন ঘোষের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগ এনে মামলা করেন সানজিদা আক্তার। প্লাবন এখন পলাতক রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
সানজিদা আক্তার দাবি করেছেন, রাতে এশা প্লাবনের সঙ্গেই ছিল। অনেক রাত হয়ে যাওয়ার পরেও যখন এশা বাসায় ফিরছিল না, তখন আমি প্লাবনকে ফোন করি। প্লাবন জানায়, এশা তার সঙ্গে আছে। রাত ১টার পর আবার ফোন করি। তখন প্লাবন জানায়, এশা পাগলামি করছে। তারা গণ্ডগোল করছে। তখন আমি প্লাবনকে বলি, আমার মেয়ের কিছু হলে সব দোষ তোমার। আমার মনের মধ্যে কেমন যেন করছিল তখন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমি বাসার দারোয়ানকে ফোন করি। জিজ্ঞাসা করি, এশাকে দেখেছে কি না। তখন দায়োয়ান আমাকে জানায়, এশা আর প্লাবন বাড়ির সামনে ঝামেলা করছিল। হাতাহাতি করছিল তারা। প্লাবনের সঙ্গে গাড়ি ছিল। ওরা দুজন সারা রাত বাইরে রাস্তায় রাস্তায় ছিল বোধ হয়। ভোরের পর প্লাবনের সঙ্গে আমার আর কথা হয়নি। আমি চাই, সে তার শাস্তি পাক।’
এশা প্লাবনকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছে, কীভাবে বুঝলেন জানতে চাইলে সানজিদা আক্তার বলেন, ‘ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে এশা। আর ফোনটি বালিশ এবং দেওয়ালে ঠেস দিয়ে এমনভাবে রাখা, যেখান থেকে এশার ঝুলে থাকা দেখা যাবে। আত্মহত্যা করার পরপরই প্লাবনের কথা শুনেও মনে হলো, সে সব দেখেছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্লাবন শাহজাদপুরের বাসায় যান। তারপর এশা ও তার বান্ধবী খন্দকার সুমি আক্তারকে নিয়ে ঘুরতে যান প্লাবন। সুমির মাধ্যমে জানা যায়, মোবাইলে কল আসাকে কেন্দ্র করে এশা ও প্লাবনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, এসবের মধ্যে রাত ১১টার দিকে তাদের সুমি নিজের বাসায় নিয়ে যান। কিন্তু, সুমি তাদের মধ্য আপস করতে ব্যর্থ হন। পরে এশা ও প্লাবন সুমির বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর আনুমানিক ভোর পৌনে ৫টার দিকে এশা বাসায় ফিরে তার কক্ষের ছিটকিনি লাগিয়ে দেন। সানজিদা তখন বাসায় ড্রইং রুমে ঘুমান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে সানজিদা বলেছেন, ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে প্লাবনের কাকা এশার বান্ধবী সুমিকে ফোন করে বলেন, ‘তুমি দ্রুত এশার বাসায় যাও। এশা প্লাবনের সঙ্গে পাগলামি করছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।’এরপর প্লাবন এশার মা সানজিদাকে কল করে জানান, এশা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করছে। পরে দ্রুত সানজিদা দরজা খুলতে গিয়ে দেখেন, দরজার ছিটকিনি লাগানো। পরে বাসার নিরাপত্তাকর্মীসহ অন্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পায়, এশা ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আত্মহত্যার ঘটনার পর সুমির মাধ্যমে সানজিদা জানতে পারেন, এশা ও প্লাবনের ধর্ম আলাদা হওয়ায় সম্পর্ক আর না এগিয়ে নিতে প্লাবন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে জান্নাতুল নওরিন এশাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আসামি প্লাবনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুন: ‘প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে’ এরশাদ শিকদারের মেয়ের ‘আত্মহত্যা’
