এক স্কুলের সহকারী শিক্ষক তার ছাত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ব্যঙ্গ ছড়া লিখেছেন; এর কারণ জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ওই ছাত্রীকে বেদম পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুই শিক্ষকের এমন আপত্তিকর কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বজুর ঢালী (বিডি) উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই ছাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছে শিক্ষকেরা এমনটি জানিয়েছে অসুস্থ শিক্ষার্থীর স্বজনরা।
স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, বেশ কিছুদিন হলো ইংরেজি বিভাগের মাহবুব আলম স্যার আমাদের ক্লাসের শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ব্যঙ্গ ছড়া তৈরি করেছেন। যখনই স্যারের সামনে পড়ে সে তখনই স্যার আপত্তিকর ব্যঙ্গ ছড়া বলে বলে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। পরে স্কুলের বেশ কয়েকজন ছাত্রও এসব ব্যঙ্গ ছড়া দিয়ে তাকে বিরক্ত করত।
তারা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবারও একই বিষয়ে বিরক্ত করার কারণে বাগ বিতণ্ডা হয় বন্ধুদের সঙ্গে। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আল আমীন স্যার শুনে উল্টো ওই ছাত্রীকে অন্য শিক্ষার্থীদের সামনেই বেদম মারতে থাকেন।
প্রধান শিক্ষকের পিটুনিতে আহত শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মাহবুব আলম তাকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গ কবিতা বানিয়েছে। ওই শিক্ষক স্কুলে বিভিন্ন সময় তার সামনে ওই কবিতা পড়ে তাকে বিরক্ত করেন। সুযোগ পেয়ে অন্য সহপাঠীরা ওই কবিতা পড়ে তাকে বিরক্ত করে। আজও কয়েক ছেলে সহপাঠী তাকে ব্যঙ্গ করে কবিতা পড়ছিল। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি হলে প্রধান শিক্ষক শুনে বেদম পেটায়।
আহত শিক্ষার্থীরা বাবা অভিযোগ করে বলেন, এমন একটি ঘটনা ঘটার পরে স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষক তাকে কোনো পাত্তাই দেয়নি। পরে এ ঘটনা জানতে অভিযুক্ত ইংরেজি শিক্ষক মাহবুব আলমের বাড়িতে গেলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।
তিনি বলেন, আমার মেয়ে বেশ মেধাবী। পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে ভালো করছে। স্কুলে অনেক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে কম নম্বর দেন। কৌশল ফেল করানোর সুযোগ খোঁজে। এটি নিয়েও অনেকে বহু অভিযোগ করেছে কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয় না।
তবে এ ব্যাপারে আপত্তিকর ব্যঙ্গ কবিতা রচয়িতাকারী শিক্ষক মাহবুব আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর তার ফোন নম্বর বন্ধ। এবং অবস্থানও জানা যায়নি।
স্থানীয় অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন স্কুলছাত্রীকে নিয়ে এমন আপত্তিকর কথা বা ব্যঙ্গাত্মক শব্দ ব্যবহার করে কোনো শিক্ষক এমনটি করতে পারে তা খুবই লজ্জাজনক। এটা যে কোনো শিক্ষার্থীর জন্য অসম্মানের ও বিব্রতকর। এমন কাণ্ডের বিচার দাবি করেন তারা।
ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আল আমীন বলেন, আমি ওই ছাত্রীকে মাত্র দুইটা পিটুনি দিয়েছি। ঝগড়া করছে এমন খবর পেয়ে পিটুনি দেওয়া হয়েছে। অন্য শিক্ষকের অশ্লীল আপত্তিকর কবিতার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বাগ্বিতণ্ডা বাধলে প্রধান শিক্ষক সামান্য শাসন করেছেন। আমরা স্থানীয়ভাবে এ বিষয়টি মীমাংসা করব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমি শুনিনি। তবে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
