ইসির সংলাপে আমন্ত্রণ পেলেন ত্রিশজন, অংশ নিলেন ১৩ শিক্ষাবিদ

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২২, ০৮:২৭ পিএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংলাপের প্রথম দিন ত্রিশজনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সংলাপে অংশ নিয়েছেন দেশের ১৩ জন শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী।

রবিবার বিকেল ৩টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শুরু হয়। এর মাধ্যমেই নির্বাচনকেন্দ্রিক সংলাপ শুরু করল ইসি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে রোডম্যাপ করার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে এই সংলাপের আয়োজন করে ইসি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কী কী করণীয় মূলত সেটা নিয়েই আলোচনা হবে। সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৪ নির্বাচন কমিশনার, সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

বৈঠকের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, অতীতে বেশ কিছু নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। আগামী নির্বাচন যেন অধিক অংশগ্রহণমূলক হয় প্রকৃত অংশিদারীত্বমূলক হয়, সে লক্ষ্যে কমিশন সবার মতামত নিচ্ছে।

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দুরূহ হয়ে পড়বে।

সংলাপে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং ইসির আস্থা অর্জনের ওপর জোর দেন।

তার পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি বলেন, আমরাও আপনাদের সঙ্গে পুরোপুরি একমত, সমঝোতা লাগবে। ভালো ইলেকশন করাটা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। স্টেকহোল্ডার যারা আছেন, তারাও যদি সমভাবে না আসে, পলিটিক্যাল ক্লাইমেট, নির্বাচনে রাজনৈতিক আবহ অনুকূল না হয়, দলগুলোর মধ্যে মোটামুটি সমঝোতা না থাকে; পক্ষগুলো বিবদমান হয়ে যায়, তাহলে আমাদের পক্ষে ভালোভাবে নির্বাচন করাটা দুরূহ।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতাটা গুরুত্বপূর্ণ। সমঝোতা হলে ইসির কাজ সহজ হবে।

নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির কোনো ইতিবাচক বক্তব্য না আসার প্রেক্ষাপটে হাবিবুল আউয়াল বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দলকে দেখছি, তারা কোনোভাবেই নির্বাচন কমিশনকে আস্থায় নিচ্ছে না।

 

সব দল না এলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতায় কিছুটা ‘ভাটা পড়ে যাবে’ মন্তব্য করে তিনি সবার আস্থা অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার কথা বলেন। আমরা চেষ্টা করব, আমাদের তরফ থেকে যত্ন করার জন্য।

শিক্ষাবিদদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা সহযোগিতা করবেন। দলগুলোকে এ বিষয়ে সচেতন করতে পারেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার বিষয়ে লেখালেখি চালিয়ে যেতে পারেন।

নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সিইসি বলেন, ভালো নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ‘সদিচ্ছার অভাব হবে না’।

ইসির বৈঠকে অংশ নেয়া ১৩ শিক্ষাবিদ হলেন- জাফর ইকবাল, শিক্ষাবিদ; ড. এম আনোয়ার হোসাইন, অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, ওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ; প্রফেসর এম আবুল কাশেম মজুমদার, অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. আখতার হোসেন, অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; লায়লুফার ইয়াসমিন, শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রফেসর ড. এ এফ এম মফিজুল ইসলাম, উপচার্য সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি; মুহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার, অধ্যাপক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; আল মাসুদ হাসানুজ্জামান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; ড. নিয়াজ আহম্মেদ খান, প্রো ভাইস চ্যান্সেলর ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং ড. বোরহান উদ্দিন খান, অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত