প্রতিপক্ষে এখন ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’-এ ভরা। দক্ষিণ আফ্রিকা এটা ভাবতেই পারে। কারণ বাংলাদেশ দলের কোচিং প্যানেলে যে তিন দক্ষিণ আফ্রিকান। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আছেন আগে থেকেই। এই প্রথম নিজ দেশে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে অভিযানে নেমেছেন। তার সঙ্গে এ সিরিজেই যুক্ত হয়েছেন অ্যালান ডোনাল্ড। যিনি এই সেদিনও ঘরোয়া একটি দলের কোচ ছিলেন। এছাড়া সবশেষ প্রোটিয়া হিসেবে যুক্ত হয়েছেন অ্যালবি মরকেল। এই তিনজনের মধ্যে পরের দুজন তো দক্ষিণ আফ্রিকাতেই ছিলেন। তিন ওয়ানডের ভেন্যু সেঞ্চুরিয়ন ও জোহানেসবার্গ সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের শক্তি-দুর্বলতাও তাদের জানা। এই কোচদের কাছ থেকে তাই বাভুমা-রাবাদাদের সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই তথ্যগুলো কাজে লাগিয়ে মূল সিরিজে ভালো করতে চান তামিম।
নিজ দেশের বিপক্ষে কাজ করলেও এটাই পেশাদারিত্ব। আর সেই দায়িত্বটা বেশ ভালোভাবেই পালন করছেন তিন কোচ। বিশেষ করে নতুন যোগ দেওয়া ডোনাল্ড পেসারদের নিয়ে নিবিড় কাজ করছেন। প্রোটিয়া কন্ডিশনে কোন পথে এগোলে তাসকিন-শরিফুল-মোস্তাফিজরা ভালো করবেন সেই দিকটায় নজর রাখছেন খুব। ওদিকে আফিফ হোসেনকে নিয়ে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে সোজাসুজি হিট করার অনুশীলন করিয়েছেন অ্যালবি মরকেলকে। অনুশীলনে এই সুবিধা ছাড়াও তাদের কাছ থেকে কন্ডিশন, মাঠ ও বিপক্ষের ক্রিকেটারদের সম্পর্কে ভালো তথ্য জেনে নিচ্ছেন তামিম। তবুও ওয়ানডে অধিনায়কের চিন্তা দিন শেষে মাঠের ক্রিকেটই কথা বলবে, ‘আমাদের সঙ্গে ডোনাল্ড নতুন জয়েন করেছেন। অ্যালবি মরকেল আছেন গত দুই দিন ধরে। তো চেষ্টা করছি সবাই সবার মতো করে তাদের কাছ থেকে যতটুকু সম্ভব নেওয়ার। মাঠের ব্যাপারে, চেজ করলে ভালো না ব্যাটিং করলে ভালো? এছাড়া বিপক্ষের ক্রিকেটারদের ব্যাপারেও জানার চেষ্টা করছি। আর ওনারা বেশ সহযোগিতাও করছেন। কিন্তু আমি সবসময়ই একটা কথা বলি এসব কিছু যতই থাকুক, মাঠের বিষয়টাই দিন শেষে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি খেলার আগে অনেক তথ্য পেতে পারেন কিন্তু মাঠে গিয়ে কীভাবে চাপটা নিচ্ছেন বা মানিয়ে নিচ্ছেন, কীভাবে পরিকল্পনাগুলোকে সফল করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১৭ সালের পর এই প্রথম সফর বাংলাদেশের। এমনিতেই কঠিন কন্ডিশন, তার ওপর পাঁচ বছরের অচেনা। এই দলের তামিম-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ ছাড়া অনেকেই ছিলেন না গত সফরের ওয়ানডে দলে। তামিমদের জন্য কাজে দিয়ে গত কিছুদিনের অনুশীলন। নেটে ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি সেঞ্চুরিয়ন ও জোহানেসবার্গের সেন্টার উইকেটে অনুশীলন করতে পেরেছেন। যা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে ক্রিকেটারদের। তবে তামিম জোর দিচ্ছেন মানসিকতার ওপর, ‘আমরা প্রায় তিন-চারটা অনুশীলন সেশন করেছি। এর মধ্যে যতটা পারি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু একটা বিষয় চিন্তা করতে হবে যে এই কন্ডিশনে আমরা সবসময় খেলি না। তাই বিষয়টা মানসিকতার ওপর। মানসিকভাবে যতটুকু তৈরি থাকবেন লড়াইয়ের জন্য এটা কাজে দেবে বেশি। কারণ আপনি সারা বছর এক ধরনের উইকেটে খেলেন, এখানে চার-পাঁচ দিন আগে আসছেন। ওভারঅল আপনি যত তাড়াতাড়ি তৈরি হবেন সেটাই কাজে দেবে।’
তামিম তৈরি থাকতে চান ম্যাচের শুরুতেই। বরাবরের মতো আজকের ম্যাচেও শুরুকে প্রাধান্য দিচ্ছেন অধিনায়ক। নতুন কন্ডিশনে শুরুটা ভালো করলে ভালো কিছু করতে পারবেন বলে জানান, ‘নরমালি এখানে ওয়ানডে খেলার খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই। তাই বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে খেলাটা। এই একটা মাঠ যেখানে খুব রান হয় কারণ মাঠের সাইজ একটু ছোট ও আউটফিল্ড খুব ফাস্ট। পাশাপাশি আমাকে এটাও স্বীকার করতে হবে যে যতই পরিসংখ্যান দেখি না কেন আমাদের মাঠে ভালো করতে হবে। সম্প্রতি আমরা ওদের সঙ্গে ভালো খেলেছি যেমন বিশ্বকাপে। আর আমি বিশ্বাস করি যে এখানে ভালো করতে না পারার কোনো কারণ নেই। তবে আমি যত কিছুই বলি না কেন দেখতে হবে কাল আমরা শুরুটা কেমন করি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণণ বিষয় হবে কালকের শুরুটা।’
তামিম শুরুতেই ভালো করতে চান। প্রোটিয়া কন্ডিশনে তাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য ড্রেসিংরুমে থাকবেন তিন প্রোটিয়া। তাদের টিপস বাংলাদেশকে ভালো কিছু করতে সহযোগিতা করবে নিশ্চিত।
