মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্য (মাসিক শেষ ও পরবর্তী মাসিক শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী ব্যবধান) পরিবর্তিত হতে থাকলে তাকে অনিয়মিত মাসিক বলা হয়। গড় মাসিক চক্র ২৮ দিন স্থায়ী হয়, যদিও এতে কিছু হেরফের হওয়া স্বাভাবিক। বয়ঃসন্ধির পর অনেক নারী একই সময় ধরে পিরিয়ডের নিয়মিত চক্র গড়ে তোলেন। কিন্তু প্রতিচক্রে কয়েক দিন কম-বেশি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
অনিয়মিত মাসিকের কারণ
বয়ঃসন্ধিকালে মাসিক প্রথম দুই বছর অনিয়মিত হতে পারে।
মেনোপজের শুরু (সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে)।
প্রারম্ভিক গর্ভাবস্থা।
কিছু ধরনের হরমোন গর্ভনিরোধক। যেমন : গর্ভনিরোধক পিল বা অন্তঃসত্ত্বা সিস্টেম (IUS)।
অতিরিক্ত ওজন হ্রাস বা ওজন বৃদ্ধি, অত্যধিক ব্যায়াম বা চাপ।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) বা থাইরয়েডের সমস্যা।
পুষ্টিকর খাদ্যের প্রতি অনীহা।
টাইপ-১ ডায়াবেটিস।
কুশিং সিনড্রোম (হরমোনঘটিত রোগ)।
প্রাথমিক ডিম্বাশয়ের অপ্রতুলতা।
জন্মগত অ্যাড্রিনাল হাইপারপ্লাসিয়া।
হরমোন নিঃসৃত টিউমার।
কখন ডাক্তার দেখাতে হবে
সব সময় সামান্য অনিয়মিত মাসিক হলে বা আপনি বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া নারীর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার দরকার নেই। তবে, কারণ জানার জন্য পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। যদি আপনি নিম্নলিখিত কারণগুলোর সম্মুখীন হন, ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মাসিক হঠাৎ অনিয়মিত হয়ে গেলে এবং আপনার বয়স ৪৫ বছরের কম হলে। মাসিক প্রতি ২১ দিনের মধ্যে হয়ে গেলে বা প্রতি ৩৫ দিনের চেয়ে মাসিক ৭ দিনের বেশি স্থায়ী হলে। আপনার ক্ষুদ্রতম এবং দীর্ঘতম মাসিক চক্রের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হলে (অন্তত ২০ দিন)। অনিয়মিত মাসিক হলে এবং আপনি গর্ভবতী হওয়ার জন্য চেষ্টা করলে।
চিকিৎসা
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) এবং হাইপোথাইরয়েডিজম নারীদের অনিয়মিত পিরিয়ডের দুটি সাধারণ কারণ। সাধারণভাবে, চিকিৎসার লক্ষ্য হলো শরীরে হরমোনের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা। PCOS থাকলে ডাক্তার পিরিয়ড শুরু করার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা অন্যান্য হরমোনের সুপারিশ করতে পারেন। হাইপোথাইরয়েডিজম (আন্ডার-অ্যাক্টিভ থাইরয়েড) থাকলে থাইরয়েড হরমোন গ্রহণ করতে হতে পারে।
প্রতিরোধ
স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণে গুরুত্ব দিতে হবে। মানসিক চাপমুক্ত থাকুন, অতিরিক্ত উদ্বেগ পরিহার করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয়। ফাস্ট ফুড বা জাংক ফুড এড়িয়ে চলুন। পুষ্টিকর ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খাবেন।
খাবার
উচ্চ ফাইবার, কম চর্বি এবং ডিটক্স ডায়েট গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করতে হবে। নিয়মিত বিরতিতে ছোট এবং ঘন ঘন খাবার খেতে হবে। বাইরের খাবার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন। অনুগ্রহ করে আপনার খাদ্য পরিকল্পনার জন্য সরাসরি ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন।
