চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বৃদ্ধের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে (১৪) অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার মকিমাবাদ এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে আসামিদের স্বীকারোক্তিতে রাতেই পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ এলাকার ময়লা ফেলানোর গ্যারেজ থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- অভিযুক্ত মো. সিরাজুল ইসলাম, তার মেয়ে মোছাম্মদ বকুল বেগম, পুত্রবধূ সীমা আক্তার ও জোর করে গর্ভপাতের দায়ে স্থানীয় ইসলামিয়া মডেল হাসপাতালের আয়া নাজমা বেগম।
পুলিশ সুপার জানান, বৃদ্ধের এমন জঘন্য এবং অনৈতিক কাজের জন্য যারা সহযোগিতা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধ এবং ঘটনার শিকার ১৪ বছরের শিশুর ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।
এতে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও আরও তিন নারীকে আসামি করা হয়েছে। যারা শিশুটির গর্ভপাত ঘটানোর সঙ্গে জড়িত।
গতকাল বুধবার দুপুরে ইসলামিয়া মডেল হাসপাতালের আয়া নাজমা বেগমকে বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে শিশুটির গর্ভপাত ঘটানো হয়। কিশোরীটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।
এ ঘটনার দায় স্বীকার করায় বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনার শিকার শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অর্থ) সুদীপ্ত রায়, জেলা বিশেষ শাখার কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ জোবায়ের সৈয়দ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মহসিন কবির প্রমুখ।
