শেষ দৃশ্যে অভিনয় করে মনে হয়েছে আমিও যুদ্ধ করেছি : ভাবনা

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২২, ০৬:৩২ পিএম

নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’তে কাজ করেছেন আশনা হাবীব ভাবনা। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধের ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানালেন তিনি। শ্রুত লিখন করেছেন মাসিদ রণ।

নুরুল আলম আতিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা, তিনি তার ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ছবিতে আমাকে পদ্ম চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দিয়েছেন। কারণ, আমি ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভীষণভাবে বিশ্বাসী। আমি মনে করি, আমাদের সবচেয়ে গৌরবের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধ। এমন অধ্যায় এ জাতির জীবনে আসবে বলেও মনে করি না। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য যে সে সময় আমার জন্ম হয়নি। ফলে মুক্তিযুদ্ধের শিক্ষার স্কুল আমার পরিবার, আমার বাবা-মা।

‘লাল মোরগের ঝুঁটি’তে অনেকগুলো চরিত্র। প্রতিটি চরিত্র চলচ্চিত্রটির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রত্যেক চরিত্রের আলাদা গল্প আছে। তাতে গুণী শিল্পীরা অভিনয় করেছেন। তবে নির্মাতা অনেকবার বলেছেন, এই ছবির একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা চরিত্রটি হলো পদ্ম। আমি সেই চরিত্রে অভিনয় করেছি। মেয়েটি সাঁওতালি, হাড়িয়া বিক্রি করে। কিন্তু দেশের প্রতি এই অশিক্ষিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েটির যে অগাধ টান, সেটি ফুটে ওঠে তার কর্মকাণ্ড, স্পেশালি শেষ দৃশ্যে রুখে দাঁড়ানোর মাধ্যমে। পুরো ছবিতে তেমন কোনো যুদ্ধ-বিধ্বংসী বিষয় নেই। মানসিক টানাপোড়েন আর অন্যায়-অবিচার দেখে দেখে যখন দর্শকের মনে পাকিস্তানিদের ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার জন্ম দেয়, ঠিক তখনই পদ্ম সব দেশপ্রেমিক বাঙালির প্রতিনিধি হয়ে প্রতিশোধ নেয়।

আজকেও ছবিটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখেছি। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫০ জন দর্শকের সঙ্গে দেখেছি। সিনেমা হলে তো অনেকবার গিয়েছি। সব শ্রেণির দর্শক সিনেমার শেষ দৃশ্য দেখার পর যে হাততালি দিয়ে ওঠে, সেটি আমার পরম প্রাপ্তি। এই দৃশ্যটিতে আমি পাকিস্তানি অফিসারের গলায় দা দিয়ে কোপ মারি! মুক্তিযুদ্ধ করতে পারিনি, কিন্তু দৃশ্যটি করার পর মনে হয়েছিল, আমিও যুদ্ধ করেছি।

ছবিটির জন্য অনেক ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল আমাকে। সিনেমার শুটিংয়ের আগে অনেক দিন অন্য শুটিং করিনি। সিনেমার সেটে গিয়ে থেকেছি। সাঁওতালি ভাষা প্র্যাকটিস করেছি। এ ছাড়া নানা পড়াশোনা, বিশেষ করে পরিচালকের সঙ্গে অনেকবার মিটিং তো ছিলই। সব মিলিয়ে পদ্ম চরিত্রটি যে দর্শকের কাছে জীবন্ত মনে হয়েছে সেটিও আমার জন্য সফলতা। মুক্তিযুদ্ধের গল্পে আমি আরও কাজ করতে চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত