বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বে তার এক ‘বীরত্বের’ঘটনা তুলে ধরেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ বলার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে নেত্রী (খালেদা জিয়া) একজন গৃহবধূ ছিলেন। প্রথম জিয়াউর রহমান সাহেবের বিদ্রোহের পর তার স্ত্রী, তিনি সেদিন যখন সোয়াত জাহাজের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন পাকিস্তানি কমান্ডার আমাদের অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার সোহরাব হোসেনসহ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় খালেদা জিয়া প্রথম বলেছিলেন, “তোমরা অস্ত্র সমর্পণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জিয়াউর রহমান ফিরে আসেন।” এ-ই দিয়ে তাঁর শুরু।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি সব সময় বলার চেষ্টা করেছি যে দেশে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা কেউ যদি থাকেন, তিনি হচ্ছেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। তাঁকে আজ মিথ্যা মামলায় বন্দী করে রাখা হয়েছে। ৪০ বছর ধরে যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, তাঁকে এই সরকার আটক করে রেখেছে।’
বিভিন্ন সভা-সমাবেশে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ বলে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর কারণ ব্যাখ্যা করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের নেতা তারেক রহমান সাহেবও ওই সময়ে (একাত্তরে) তাঁর ছোট ভাইসহ খালেদা জিয়ার সঙ্গে বন্দী ছিলেন। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের ওই ছোট মানুষটির অবদানও কারও অস্বীকার করার উপায় নেই। এই নেতাকে আজ দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না।’
গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, সরকার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধ নয়, এক ব্যক্তির জন্মশতবার্ষিকীকে প্রাধান্য দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বাধীনতাযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধকে সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা সেদিন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, প্রবাসী সরকার, এম এ জি ওসমানীর নাম, সেক্টর কমান্ডারদের নাম কতবার উচ্চারণ করা হয়েছে? তাজউদ্দীন আহমদের নাম কতবার উচ্চারণ করা হয়েছে? স্বাধীনতাযুদ্ধ কোথায় গেল? এখানে তো শুধু একজন ব্যক্তির ব্যাপারটা এসে যাচ্ছে সামনে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা, সেটিই আজ সবচেয়ে বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সারা বিশ্বে আমরা চিহ্নিত হয়েছি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী একটি দেশ হিসেবে।’
সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও সদস্যসচিব আবদুস সালামও বক্তব্য দেন।
