মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে সকালে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপরেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সৌধ প্রাঙ্গণ। এ সময় প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শহীদ বেদিতে ফুল দেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের একটি দল।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরই হুইল চেয়ারে করে নারী ও শিশুসহ ১৩ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি হুইল চেয়ারে করে এসে শহীদ বেদিতে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসতে পেরে তাদের মুখে হাস্যোজ্জ্বল প্রশান্তির ছাপ। যেন এক মুহূর্তের জন্য তারা ভুলে গিয়েছিল হুইল চেয়ার তাদের পায়ের গতি সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। কিছুক্ষণের জন্য যেন তারা সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছিল।
প্রতি বছর পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানেই থাকা কিছু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ আনা হয়। এবারও প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিয়ে এসেছেন।
১৩ জনের সাথে ফুল দিতে আসা শারীরিক প্রতিবন্ধী তনন কুণ্ড জয় বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বীর শহীদরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলেন। অনেকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হাত-পা কিংবা সম্ভ্রম হারিয়েছেন। আমাদের শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতা আছে। শুধু এই প্রতিবন্ধকতার কারণে যদি আমরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে না পারি তাহলে তো সত্যিকারের জয় আসবে না।
হুইল চেয়ারে বসে থাকা আরেকজন রুবেল তালুকদার। তিনি বলেন, প্রতিবছরে আমাদের মতো প্রতিবন্ধী কেউ না কেউ এই স্মৃতি সৌধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এবার আমিও এসেছি। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল এখানে আসার। দেশের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমি প্রশান্তি অনুভব করছি। তাদের প্রতি হাজারো সালাম রইল।
সিআরপির সমাজ কল্যাণ বিভাগের প্রধান মো. শফিউল্লাহ বলেন, আপনারা অনেকেই জানেন আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীদের নিয়েই কাজ করে। প্রতিবন্ধীদের মধ্যে অনেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসতে চায়। আর প্রতিবছর কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকেই এখানে আনা হয়। আমরা অনেকে শিশুকেও এখানে এনে থাকি, যেন তারা মুক্তিযুদ্ধের আসল ইতিহাস যানতে পারে।
তিনি বলেন, অন্য আট দশজন মানুষের মতো স্মৃতিসৌধে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রতিবছর অনেক শারীরিক প্রতিবন্ধী আমাদের সাথে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা জানতে চায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের বিজয়গাথা।
